কার্ডিফে যে জুভেন্টাসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১২তম শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, মাত্র ১০ মাস পর আবার তাদের বিপক্ষেই মুখোমুখি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। তবে ইউরোপ সেরার ম্যাচে এবার ভেন্যু আর অবস্থান বিপরীত। আগেরবার ছিল ফাইনাল, এবার কোয়ার্টার ফাইনাল। আগেরবার দুদলের জন্যেই ছিল নিরপেক্ষ ভেন্যু। এবার জুভদের ঘরের মাঠ প্রথম লেগের লড়াই, পরের লেগ রিয়ালের মাঠে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫মিনিটে তুরিনে মাঠে নামবে রোনালদো-বেলরা।
শেষ ষোলোতে দুই লেগ মিলিয়ে নেইমার-এমবাপের পিএসজিকে ৫-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। আর ম্যাস্সিমিলিয়ানো অ্যাল্লেগ্রির দল টটেনহ্যাম হটস্পারকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে।
দুই দলের এটি ২০তম সাক্ষাত। এই ম্যাচ দিয়েই কোচ হিসেবে প্রথমবারের মত তুরিনে যাচ্ছেন জিদান। একসময় যে ক্লাবের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ‘তুরিনের বুড়িদের’ হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলেছেন এবং ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অরটা সেখান থেকেই পেয়েছেন জিজু।
‘আমি তুরিনের মানুষ হয়ে গেছি। আমি সবসময় জুভেন্টিনোদেরই থাকব।’ ‘হৃদয়ে’ স্প্যানিশ ঢোকানোর আগে জুভদের নিয়ে এমন কথাই বলেছিলেন জিদান। পরে রিয়াল সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই ক্লাব আমার জীবন।’ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি জুভ ম্যাচ সবমিলিয়ে জিদানের জন্য অতীত বনাম বর্তমান, মন বনাম হৃদয়ের যুদ্ধ।
যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্রয়ের পর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা বলেছিলেন, ‘অনেক কারণেই আমি জুভেন্টাস এড়াতে পছন্দ করতাম।’
লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ১৩ পয়েন্ট পেছনে থাকায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগই চলতি মৌসুমের একমাত্র সুযোগ লস ব্ল্যাঙ্কোসদের। তবে বিপরীত অবস্থানে জুভেন্টাস। সিরি আ’তে তো শীর্ষেই, সেই সঙ্গে ট্রেবল জয়ের দৌড়েও আছে অ্যাল্লেগ্রির দল।
হিসাব-নিকাশ যাই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হলে ভিন্ন চেহারায় দেখা দেয় রিয়াল। চেহারায় পরিবর্তন আসে দলের প্রাণভোমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও। কার্ডিফের ফাইনালে জোড়া গোল করে বুফনকে ঘুমহীম রাত উপহার দিয়েছিলেন সিআর সেভেন।
চলতি মৌসুমের শুরুটা ভাল না হলেও ছন্দে ফিরেছেন রোনালদো। রিয়ালের জার্সিতে সবশেষ ১১ ম্যাচে গোল করেছেন ২১টি। ছন্দে আছেন জাতীয় দলের জার্সিতেও। গত সপ্তাহে মিশরের বিপক্ষে পর্তুগালকে জিতিয়েছেন জোড়া গোলে।

রোনালদো ও রিয়ালকে নিয়ে তাই বুফন বলেছেন, ‘আপনি যখন রিয়ালের মত দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলতে পারেন না। তবে এটা জানি, আমি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যে আমাকে ঘুমহীন রাত উপহার দিতে পারে।’
জুভদের বিপক্ষে যতবার খেলেছেন ততবারই গোল পেয়েছেন রোনালদো। মুখোমুখি হওয়া পাঁচ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা সাত। রোনালদোর ফর্মের সঙ্গে জিদানের জন্য স্বস্তির খবর, এই ম্যাচে ইনজুরি নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেই রিয়ালের ডেরায়।
তবে ম্যাচে অ্যাল্লেগ্রি দলে পাচ্ছেন না তার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার পাওলো দিবালাকে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে প্রথম লেগে খেলতে পারবেন না আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন দিবালা। শেষ ষোলোর ম্যাচে টটেনহ্যামের বিপক্ষে জয়সূচক তিনম্বর গোলটি তারই। গোলে পেয়েছেন এসি মিলানের বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচেও। সব প্রতিযোগিতায় এই মৌসুমে তার গোল সংখ্যা ২২।
অ্যাল্লেগ্রির জন্য বিপদ আছে আরো। দিবালার সঙ্গে তিনি দলে পাচ্ছেন না মিরালেম পিয়ানিচ ও মেডি বেনাতিয়াকে। পিয়ানিচের অনুপস্থিতি মাঝ মাঠ ভোগাবে জুভদের। সেই সঙ্গে সেটপিচেও তার অভাব টের পাবে। চলতি মৌসুমে সেটপিচ থেকে ছয়টি গোল করেছেন।
খারাপের সঙ্গে কিছুটা ভাল খবরও আছে অ্যাল্লেগ্রির জন্য। ইনজুরি থেকে ফিরছেন জর্জিও কিয়েল্লিনি ও হুয়ান কুয়াদ্রাদো। এছাড়া ব্রাজিলিয়ান অ্যালেক্স স্যান্ডোর সঙ্গে দলে ফিরেছেন মারিও মানজুকিচও।
আগে ১৯বার মুখোমুখি হয়েছে রিয়াল ও জুভেন্টাস। জয়ের পাল্লা অবশ্য রিয়ালের দিকে একটু ঝুঁকে। জুভদের আট জয়ের বিপরীতে নয়বার জিতেছে রিয়াল। যার মধ্যে আবার ১৯৯৮ ও ২০১৭ সালের ফাইনালও আছে। দুই ফাইনালেই জয়ী দলের নাম রিয়াল মাদ্রিদ।
জুভেন্টাসের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে ২০১৫ সালের স্মৃতি। ওই মৌসুমে রিয়ালকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করেছিল ইতালিয়ান জায়ান্টরা। তবে ফাইনালে রিয়ালের চিরপ্রতিন্দ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে হেরে যায় তারা।
রিয়ালের রাতে অন্য ম্যাচে একই সময়ে মাঠে নামবে বায়ার্ন ও সেভিয়া।








