হাথুরুসিংহে কোচ হয়ে আসার পর সাফল্যের নতুন অধ্যায়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। হাথুরুর পরশে টাইগারদের বদলে যাওয়ার কথাই দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আসে বেশি। সাবেক কোচকে প্রাপ্য কৃতিত্বটা দিচ্ছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও। বাংলাদেশের সাফল্যে সাবেক কোচের অবদান তুলে ধরে স্যালুট জানাতেও কার্পণ্য করলেন না টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক। সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিলেন সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের অবদানের কথাটিও।
‘দেখেন, বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যারা খেলোয়াড় আছে, তারা অনেক বড় মানসিকতা নিয়েই ঘোরে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে হাথুরুসিংহেকে স্যালুট জানাই। অবশ্যই তার অধীনে খেলে আমরা ভাল ফল পেয়েছি। প্রাপ্য কৃতিত্বটা তাকে দিতে আমাদের বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই। আমরা এমনও না যে তাকে কৃতিত্ব দিতে চাই না। আবার বলতে হবে আমরা ভাল এক্সিকিউসনও করেছি। তামিমের রেকর্ড, মুশফিকের রেকর্ড শেষ বছরে যদি দেখেন, সাকিবের ক্যারিয়ার যদি দেখেন, সঙ্গে মোস্তাফিজ; এগুলো যদি আলাদা আলাদা করে দেখেন কোচ তাদেরকে বিশেষ কিছু করে দেয়নি। তাদের নিজেদেরই এটা করে নিতে হয়েছে। সত্যিকার চাপটা তাদের নিতে হয়েছে এবং তারা কাজটা করে দেখিয়েছে।’
উদাহরণ টেনে মাশরাফী বললেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যখন সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, তখন আমার কাছে মনে হয়নি কেউ ওখানে গিয়ে তাদেরকে আলাদা করে ধরে খেলিয়ে দিয়ে আসছে। সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছে এবং পারফরম্যান্স করেছে। এটাই আসল। আমি মনে করি যেই কোচ থাকুক, তাকে শতভাগ ফিরিয়ে দিয়েছে খেলোয়াড়রাও। আমাদের সেটা বলতে দ্বিধা নেই। কৃতিত্ব ছেলেদের দিতেই হবে, যেভাবে তারা খেলেছে।’
হাথুরু এবার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দলের কোচ। সময় নিজেদের সত্যিকার সামর্থ্য প্রমাণের। বাকি কোচিংস্টাফদের নিয়ে যে চ্যালেঞ্জে ভালভাবেই উতরে যাবেন বলে আশাবাদী মাশরাফী, ‘এখন যারা কোচিংস্টাফ আছেন- হ্যালসল, সুজন ভাই, ওয়ালশ; আমরা ওনাদেরও শতভাগ ব্যাকআপ দেয়ার চেষ্টা করব। ওনারাও আমাদের শতভাগ ব্যাকআপ করছে। অবশ্যই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে সবকিছু চলবে এবং চলছে। গুড লাক টু হাথুরু। তবে আমরা আমাদেরটা নিয়েই বেশি চিন্তা করছি।’
কড়াহেডমাস্টার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হাথুরুর না থাকায় ড্রেসিংরুমে নির্ভার থাকা যাবে কিনা তেমন প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হল মাশরাফীকে, ‘আসলে যেটা হয়, নির্ভার থাকাটা নিজের উপর নির্ভর করে। খেলতে গেলে মানসিক চাপ সব সময়ই থাকে। এটাই স্বাভাবিক। অধিনায়ক হিসেবে এটা থাকবে। এখনও সেটা আছে। নিজস্ব চিন্তা ভাবনা থাকবে, মনের ভেতরে থাকবে কীভাবে তা প্রয়োগ করবো। আমার ওই জিনিসগুলো এখনও আছে। তবে ড্রেসিংরুম অনেকটাই নির্ভার। যে চাপটা সবসময় ড্রেসিংরুমে থাকে সেই চাপটা এখন অনুভব করছি না। ড্রেসিংরুমে আমি যখন আমার খেলোয়াড়দের নির্ভার দেখি, কিংবা দেখব, তখন অধিনায়ক হিসেবেও নির্ভার থাকতে সুবিধা হয়। অনেকটা চাপহীন মনে হচ্ছে।’
‘পাশাপাশি এটাও চাই না সবাই অনেক বেশি নির্ভার থাকুক। বেশি নির্ভার থাকলেও হবে না। মাঠে নেমে কঠিন পরিস্থিতিতে হয় কি, অনেক সময় নার্ভারনেস থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের হয়ে আসে। আমি আশা করব আমার আসল জায়গাটা যেন ঠিক থাকে। তারপর অন্য কিছু।’ যোগ করেন মাশরাফী।
ছবি: সাকিব উল ইসলাম








