যোগ, মেডিটেশন বা ধ্যানচর্চাকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বানে সরগরম ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। মেডিটেশন চর্চা করছেন, এমন হাজারো মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, মেডিটেশনের ওপর যেন ভ্যাট আরোপ করা না হয়। এ বছর জুন মাসে বাজেট পেশের পর থেকেই ইউটিউবে সবার জন্য মেডিটেশনের আহ্বানে ‘মেডিটেশন ফর অল’ নামের একটি চ্যানেলে সরগরম হয়ে ওঠেন মেডিটেশন চর্চাকারী হাজারো মানুষ। অল্প সময়ের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ‘নো ভ্যাট অন মেডিটেশন’ লিখে সার্চ দিলেই শোনা যাচ্ছে হাজারো কণ্ঠস্বর। মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক, বিশিষ্টজনসহ হাজারো ধ্যানী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এতে। এরই মধ্যে এ সংখ্যা ১২শ ছাড়িয়ে ক্রমশই বাড়ছে।
বর্তমান সময়ে ব্যায়াম ও মেডিটেশন মানুষের শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতার প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের হাইপারটেনশনের জাতীয় গাইডলাইনেও মেডিটেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিষন্নতাকে কাটিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মেডিটেশন। ফলে সারা দেশেই ধ্যানচর্চার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
আমাদের দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মেডিটেশন সেবাকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমে ভ্যাট প্রস্তাব করেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। আর চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেটে মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য ও সেবার তালিকায় মেডিটেশনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে মেডিটেশন বা ধ্যান চর্চাকারী শান্তিপ্রিয় হাজারো মানুষ দাবি করেন, মানুষের কল্যাণে মেডিটেশন থেকে স্থায়ীভাবে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক।
কারো মতে, মেডিটেশনে ভ্যাট বসানো হলে যে অর্থ আদায় হবে তা খুবই সামান্য। এর চেয়ে মেডিটেশনকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হলে এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আত্মউপলব্ধির মাধ্যমে নিজেকে আরো বেশি যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে; যা দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইউটিউবে সংগীতশিল্পী এস আই টুটুল থেকে শুরু করে চিত্রনায়ক সোহেল রানা, ইমন, আনিসুর রহমান মিলন, সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী, আসিফসহ মিডিয়ার অসংখ্য কর্মী যোগ দিয়েছেন এই আন্দোলনে। এরপর জনে জনে ছড়িয়ে পড়ে নো ভ্যাট অন মেডিটেশনের স্লোগান। কবি, সাহিত্যিক, সমাজের বিশিষ্টজনসহ নানা পেশার মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান মেডিটেশনের নানা উপকারের কথা। ভিডিও প্রতিক্রিয়ায় রয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্য ও সংগীত ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা জামান আব্বাসী, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লাসহ সারা দেশের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ শিশুরাও।








