চা-শ্রমিকদের হয়ে তাদের কথা তুলে ধরলেন সাংবাদিক ও ব্লগার আরিফ জেবতিক। ফেসবুকে তিনি এই সংক্রান্ত একটি পোষ্ট লিখেছেন। পোষ্টে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কথাও তুলে আনেন এই সাংবাদিক।
তিনি লিখেন, ‘বাংলাদেশ এমনই ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যে এখানে যেখানেই দাগ দিবেন সেখানেই কারো না কারো বসতবাড়ি নয়তো ক্ষেতের জমি পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদেরকে শিল্পে যেতে হবে, অবকাঠামো তৈরি করতে হবে-কোথাও জমি দেব না বলে বসে থাকলে চলবে না।’
পদ্মাসেতু প্রকল্পের কথা টেনে আরিফ জেবতিক লিখেন, ‘জমি নেয়ার এক সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত হয়েছে পদ্মাসেতু প্রকল্প, সেখানে যারা জমি-জিরাত হারিয়েছেন তারা সকলেই সন্তোষজনক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, সরকার তাদেরকে বাড়িঘর করে দিয়েছে, নগদ টাকা দিয়েছে। (যদিও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাবে সেই নগদ টাকার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার তারা কতটুকু করতে পেরেছেন, সেটি পরবর্তী পর্যায়ে খতিয়ে দেখা দরকার।)’
‘পদ্মাসেতুর উদাহরণকে সামনে রেখে পুনর্বাসনের একটি স্পষ্ট রূপরেখা আমাদের জাতীয় পর্যায়ে নেয়া দরকার। যাতে করে কোথাও ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন হলে স্থানীয় অধিবাসীরা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না হোন।’
এরপর হবিগঞ্জের চা-শ্রমিকদের হয়ে তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জের চা-শ্রমিকদের জন্য একটি বড় আকারের পরিকল্পনা নেয়া হোক। তারা জমির মালিক নন, সরকারই জমির মালিক-এই কথা বলে বংশপরম্পরায় চাষ করা ভূমি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ফিরিয়ে নেয়াটা অমানবিক হবে।’
তাদের ক্ষতিপূরণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা তুলে তিনি পোষ্টে লিখেন, ‘তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত। তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। আমি সিলেটের ছেলে হিসেবে দেখেছি চা শ্রমিকরা খুবই পরিশ্রমী হন। এমনিতেই চা-বাগানের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অজস্ত্র শ্রমিক চা-বাগানে কাজ পাচ্ছেন না। তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিলে শিল্পের জন্য ভালো হবে, তাদের শ্রমের নায্যমূল্য নির্ধারণ করে দিলে তাঁদের বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত পরিশ্রমী স্বভাবের কারণে শিল্পও লাভবান হবে এবং নায্য শ্রমমূল্য পেলে তারাও লাভবান হবেন।
সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের সংকটের একটি নায্য ও সম্মানজনক সমাধান হোক, এটাই কামনা।’







