অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের কথাতেই আভাস ছিল। বৃহস্পতিবার সেটাই সত্যি হলো। ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পরের ম্যাচেই একাদশের বাইরে ছিটকে যেতে হলো করুন নায়ারকে। তিনি অবশ্য একা নন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ভাগ্য বরণ করার ছোট্ট তালিকায় আরো তিন জন আছেন। শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের অ্যান্ডি স্যান্ডহ্যামকে দিয়ে। পরে লেন হাটন ও ইনজামাম-উল-হক যুক্ত হয়েছেন। তবে হাটন ও ইনজামামের ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রম। ট্রিপল সেঞ্চুরির পরের ম্যাচে না খেললেও সেটি তাদের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ছিল না।
তাতে সোজা কথায় নায়ারকে বলিরপাঠাই বলা যায়! ভারতের হয়ে সর্বশেষ টেস্টেই হার না মানা ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে অপরাজিত ৩০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেটিও একাদশে জায়গা নিশ্চিত করতে পারল না। সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানের চোটে জায়গা মিলেছিল, তার ফেরার কারণেই ছেড়ে দিতে হলো জায়গাটা।
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের ইতিহাসে নায়ার তাই প্রথম নন। ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পরের টেস্টেই একাদশের বাইরে ছিটকে যাওয়ার প্রথম ঘটনাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন ইংলিশ ক্রিকেটারের নাম। তিনি অ্যান্ডি স্যান্ডহ্যাম। সময়টা ১৯৩০ সাল। তখন টাইমলেস টেস্টের যুগ চলছে। সেবছরের এপ্রিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিল ইংল্যান্ড। তাতে কিংস্টোন টেস্টে ৩২৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন ওপেনার স্যান্ডহ্যাম। পরের টেস্টেই বাদ!
তাতে ১৪ টেস্টেই থেমে গিয়েছিল স্যান্ডহ্যামের ক্যারিয়ার। সাদা পোশাকে ২৩ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৩৮.২১ গড়ে ৮৭৯ রান করেছেন এই ইংলিশ। তখন ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান স্যান্ডহ্যামের বাদ পড়ার কারণ হিসেবে আলোচিত ছিল বয়সের বিষয়টি! ততদিনে যে বয়সটা ৩৯ পেরিয়ে গেছে ইংলিশ ওপেনারের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ম্যাচ সংখ্যা অবশ্য ৬৪৩টি। ব্যাট করেছেন কানায় কানায় ১০০০ ইনিংস। আছে ১০৭টি সেঞ্চুরি ও ১৬৫টি ফিফটি। আর ৪৪.৮২ গড়ের রান সংখ্যা ৪১২৮৪! ১৯৮২ সালে ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান স্যান্ডহ্যাম।
অন্যদিকে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান লেন হাটনের ঘটনাটি ১৯৩৮ সালের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ৩৬৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সেবছর। কিন্তু পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলেননি এই ইংলিশম্যান। ইনজামাম-উল-হক ২০০২ সালে লাহোর টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৯ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি খেলেছিলেন। পাকিস্তানের পরের সিরিজটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সেই সিরিজে কোনো ম্যাচেই খেলেননি এই পাক তারকা।
তবে বয়সের দিক থেকে নায়ারকে একটু বেশিই দুর্ভাগা বলা যায়। বয়সটা যে মাত্র ২৫-এর ঘরে তার। এটিকেই আবার ইতিবাচক ভাবেও দেখতে পারেন তিনি। আশার সঞ্জীবনী ভেবে নিতে পারেন। বয়সের কারণে তাকে তো আর স্যান্ডহ্যামের মত পরিণতি বরণ করতে হবে না। দ্রুতই হয়তো সাদা পোশাকে ভারত একাদশে ফেরার সুযোগ মিলবে নায়ারের। ৩ টেস্টের ক্যারিয়ারটাও হয়তো হেঁটে যাবে অনেকটা পথ।








