রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি এবং জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন আয়োজিত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান। গৃহহীন ও নিরাশ রোহিঙ্গাদের জন্য এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত সেপ্টেম্বরে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি। এ বছর কতিপয় সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
গত বছর থেকে মিয়ানমার সামরিক জান্তার অত্যাচার নির্যাতন আর জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ১৬ কেটি জনসংখ্যার এই বাংলাদেশ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না গেলে ব্যাপক সামাজিক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়নের ধারা ও দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন আজ অনিবার্য। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব সংগঠন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেও তাদের টলাতে পারেনি। তারা এই প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তারা এখন টালবাহানা করছে। জাতিসংঘ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওআইসি দেশগুলোর প্রতিও এবার আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাদের জোরালো ভূমিকা রাখার। এই সংকট সমাধানের খুব দ্রুতই সমাধান প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের বিষয় মোকাবেলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ সহ জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনায় ওআইসি দেশগুলোর অব্যাহতভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করেছে। স্বল্পতম সময়ে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করা আবশ্যক।








