শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় বহুল প্রতীক্ষিত ছবি স্বপ্নজাল। অনেকেই ছবিটিকে মনপুরার সঙ্গে তুলনা করছেন, কেউ বলছেন স্বপ্নজাল মনপুরাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আবার অনেকে বলছেন, ছবিটি মূলত মনপুরার আরেকটি ভার্সন। আবার সরাসরি কেউ বলেই বসছেন যে, স্বপ্নজাল মূলত ‘মনপুরা ২’! ছবিটি নিয়ে এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় আপনি কী বলবেন?-এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: সবাই সবার মতো করে দেখছে। সবার মতো করে ভাবছে। সবাই সবার মতো বিচার করছে। এতে আমার কিছু বলার নেই। বরং ছবিটি যে সবার কাছে প্রশংসা পাচ্ছে এতেই আমার ভালো লাগা।
মনপুরা নির্মাণের দীর্ঘ নয় বছর পর বড় পর্দায় সিনেমা নিয়ে হাজির গিয়াসউদ্দিন সেলিম। মনপুরার তুমুল সফলতা সাঙ্গ করে তিনি যখন নতুন কলেবরে ফিরলেন বড় পর্দায়, তখন অনেকেই ভেবেছিলো হয়তো অসংখ্য সিনেমা হলে মুক্তি পাবে স্বপ্নজাল! কিন্তু মনের মতো পরিবেশকের অভাবে শেষ পর্যন্ত কুড়িটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হলো ছবিটি, এমনটাই জানিয়েছেন নির্মাতা।
কম সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও ‘স্বপ্নজাল’ প্রশংসা কুড়াচ্ছে নাগরিক মানুষের কাছে! শোবিজ ছাড়াও শিল্প সংস্কৃতির অনেককেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজেও চলছে স্বপ্নজাল উন্মাদনা। বেশির ভাগ রিভিউ ইতিবাচক। সবাই বলছেন, প্রেমের গল্পে আবারও নিজের সামর্থ জানান দিলেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম।
ঢাকার মধ্যে স্বপ্নজাল দেখতে মানুষের আমেজ টের পাওয়া গেলেও ঢাকার বাইরে কেমন চলছে?-এমন প্রশ্নে নির্মাতার উত্তর: ভালোইতো মনে হচ্ছে। শুনছি ঢাকার বাইরেও সেল বাড়ছে। ছবি মুক্তির পর আমি ব্যক্তিগতভাবে শ্যামলি, স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকায় ঢুঁ দিয়েছিলাম। দেখলাম মানুষ ছবিটি পছন্দ করছে। এটা শুনেই আসলে ভালো লাগছে। ঢাকার বাইরেও মানুষ ছবিটি পছন্দ করছে।
মনপুরা মুক্তির পর পরেই মানুষের মধ্যে যে হাইপ তৈরি করেছিলো, সেই ক্ষেত্রে স্বপ্নজাল কিছুটা ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাবে জানিয়ে নির্মাতা আরো বলেন: আসলে স্বপ্নজাল হুট করে সিনেমা হলে উন্নতি করবে না। ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটা উন্নতি করবে। মানুষের কাছে যাবে। এরকম মনে হচ্ছে আমার।
এদিকে দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘স্বপ্নজাল’-এর বেশি প্রেক্ষাগৃহ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কারণ প্রথম সপ্তাহে কুড়ি হলে স্বপ্নজাল মুক্তি দেয়ার বিষয়ে নির্মাতা জানিয়ে ছিলেন: ছবিটি প্রথম সপ্তাহে মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারলে, হাইপ তৈরি করতে পারলে হয়তো হল মালিকরাই স্বেচ্ছায় সিনেমাটি নিতে উদ্যোগী হবেন!
কিন্তু সে সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। কারণ, বৈশাখ উপলক্ষ্যে ১৩ এপ্রিল মুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে চিত্রনায়ক আলমগীরের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ এবং চিত্রনায়িকা ববির প্রযোজনায় আলোচিত ছবি ‘বিজলী’। দুটি ছবিই দেশের বেশির ভাগ প্রেক্ষাগৃহ দখলে নিবে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহ দখলে কি ভূমিকা রাখতে পারবে স্বপ্নজাল সেটা নিয়েও রয়েছে বড় আশঙ্কা!
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ‘স্বপ্নজাল’-এর শুটিং শুরু হয়। কলকাতায়ও কিছু অংশের দৃশ্যায়ন হয়। সিনেমায় দেখা যাবে, কঠোর বাস্তবতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অপু ও শুভ্রা নামের দুই তরুণ তরুণী। ছবিতে শুভ্রার চরিত্রে আছেন পরীমনি, আর অপু চরিত্রে ইয়াশ রোহান। বেঙ্গল ক্রিয়েশন্স ও বেঙ্গল বার্তার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ এর কাহিনী ও চিত্রনাট্য করেছেন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম নিজেই। ছবিতে পরী-ইয়াশ ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, শাহানা সুমী, শহিদুল আলম সাচ্চু, শিল্পী সরকার অপু, ইরফান সেলিম, ফারহানা মিঠু, ইরেশ যাকের, মুনিয়া, শাহেদ আলী, আহসানুল হক মিনুসহ আরও অনেকে।








