দেড় মাস ধরে বাঁ-চোখের কর্নিয়ায় ভাইরাল ইনফেকশনে ভুগছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পুরোপুরি সেরে ওঠার কোনও লক্ষণ নেই। থাইল্যান্ডে চোখ দেখিয়ে ফিরেছেন দেশে। রোববার এসেছিলেন বিসিবিতে। বাইরে বের হলেও সানগ্লাসে ঢেকে রাখতে হচ্ছে চোখ।
একাডেমি মাঠে এসে কিছুক্ষণ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলন দেখলেন। ফেরার সময় সৈকত চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন, ‘থাইল্যান্ডের চিকিৎসক এক মাসের ওষুধ দিয়েছেন। এখনও মাঝে মধ্যে চোখ দিয়ে পানি ঝরে।’
সৈকতের চোখ নিয়ে বিসিবির চিকিৎসক মনিরুল আমিন জানালেন, ‘থাইল্যান্ডের তিনটি হাসপাতালে একই ডায়াগনোসিস হয়েছে তার। তিন হাসপাতাল মিলে সমন্বিতভাবে একটা ওয়ানওয়ে চিকিৎসা অনুসরণ করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে সৈকতের চোখ। একটা কমপ্যাক্ট ট্রিটমেন্ট চলছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে টাইম টু টাইম হাসপাতালে নিয়ে যাব। যদি ওর ভিশনটা (দেখা) ঠিক হয়ে যায়, তাহলে যেকোনো সময় খেলা শুরু করতে পারবে। কিন্তু সেটা কতদিনে ফেরত আসবে এই মুহূর্তে বলা মুশকিল।’
২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের পঞ্চম আসরে সৈকত খেলতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নে বিসিবির এ চিকিৎসক আশার কথা শোনাতে পারলেন না, ‘এটা এখনই বলাটা ঠিক হবে না। যদি দশ দিনের মধ্যে ভিশনটা ক্লিয়ার হয়ে যায়, তাহলে হয়ত…।’
বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীস চৌধুরীও জানিয়েছিলেন এমন ধরনের সমস্যায় কখনও কখনও ৬ মাসও লেগে যায়। সৈকতের চোখের সমস্যা পেরিয়েছে দেড় মাস।
সময়টাতে কতটা উন্নতি করতে পেরেছে সৈকত? মনিরুল আমিন বললেন, ‘মাঝখানে অনেকটা উন্নতি হয়ে গিয়েছিল। আবার ডেটোরিয়েট করেছে। তবে উন্নতি কিছুটা হয়েছে।’
চোখের সমস্যার কারণে আগস্টের শুরুতে চট্টগ্রামে সাতদিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি সৈকত। দল ঢাকায় ফিরলে অনুশীলনে যোগ দিয়েছিলেন। রোদ বা আলোতে তাকাতে সমস্যা হচ্ছিল। চোখ দিয়ে অতিমাত্রায় পানি পড়ায় বিশ্রামে চলে যান। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলা হয়নি। সেরে না ওঠায় সাউথ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলেও রাখা হয়নি তাকে।
কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্টে সাদা পোশাকে প্রথমবার মাঠে নামেন মোসাদ্দেক। অভিষেক ইনিংসে ৭৫ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তার আগে ১৮টি ওয়ানডে, ৬টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সক্ষমতার জানান দিয়েছেন ২১ বছরের প্রতিভাবান তরুণ।








