আগের চার আসরে বিপিএল সেঞ্চুরি দেখেছে ৯টি। যার ৭টি ছিল প্রথম দুই আসরে। পরের দুটি আসরে এসেছে মাত্র একটি করে। সময়ের সঙ্গে বিপিএল যেন সেঞ্চুরিখরার প্রতিশব্দ হয়ে উঠছে! চলতি আসরের ৪২টি ম্যাচ মাঠে গড়ালেও তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি কোন ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ৯৫ রান এসেছে চিটাগংয়ের সিকান্দার রাজার ব্যাটে।
বিপিএলের প্লে-অফ রাউন্ড মাঠে গড়িয়েছে শুক্রবার। এপর্বে রয়েছে দুটি কোয়ালিফায়ার, একটি এলিমিনেটর ম্যাচ। ১২ ডিসেম্বরের ফাইনালসহ টুর্নামেন্টে ম্যাচ বাকি চারটি। এই চার ম্যাচে সেঞ্চুরি না এলে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে হিসাব! মিরপুরের উইকেটের যে আচরণ, তাতে শতকখরার শঙ্কাটা বড়ই হচ্ছে ক্রমে। অথচ বিপিএলের যাত্রাই হয়েছিল সেঞ্চুরি দিয়ে।
২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন বরিশাল বার্নার্সের ক্রিস গেইল। সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে খেলেন ৪৪ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস। এক ম্যাচ পর ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে গেইল খেলেন ৬১ বলে ১১৬ রানের ইনিংস।
ওই আসরের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি আসে আরেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে। খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের হয়ে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে খেলেন ৭৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার একদিন পর সেঞ্চুরি হাঁকান ওপেনিংয়ে গেইলের সঙ্গী আহমেদ শেহজাদ। ৪৯ বলে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন দুরন্ত রাজশাহীর বিপক্ষে। প্রথম আসরে চারটি সেঞ্চুরিই হয় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।
২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে সেঞ্চুরি দেখেছিল তিনটি। প্রথমটি করেন খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের শাহরিয়ার নাফীস। খুলনার মাঠে ৬৯ বলে খেলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরের দুটি শতক হয় মিরপুরে। খুলনার বিপক্ষে মাত্র ৫৮ বলে ১০৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তিন দিন পর সেঞ্চুরি হাঁকান সেবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলা গেইল। সিলেটের বিপক্ষে ৫১ বলে করেন ১১৪।
২০১৫ সালে চতুর্থ আসরে একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেন বরিশাল বুলসের ওপেনার এভিন লুইস। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১০১ রান করে থাকেন অপরাজিত। আর গত আসরে একমাত্র সেঞ্চুরিটি ছিল রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিপিএলে সেঞ্চুরি করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। বরিশাল বুলসের বিপক্ষে খেলেন ৬১ বলে ১২২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। সাব্বিরের সেঞ্চুরির পরও অবশ্য ম্যাচটা হেরেছিল রাজশাহী।
পঞ্চম আসরে সেঞ্চুরির একমাত্র সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। খুব কাছে গিয়েও অবশ্য পারেননি। চট্টগ্রামে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে স্বাগতিকদের হয়ে ৪৫ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন এই জিম্বাবুইয়ান। ইনিংসের ৪ বল বাকি ছিল তখনও।








