রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি ও তার সরকার মিথ্যা বলছে মন্তব্য করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কাদামাটিতে মাথা লুকাতে চাইছে সু চি। রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা জাতিগত নির্মূল প্রচেষ্টা।
সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের মুখে যেখানে কমপক্ষে চার লাখ লোক বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে, সেখানে এই সংকটে নিজের ভূমিকার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী এই নেতা।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও উশৃংখল বৌদ্ধ জনতা পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক ধর্ষণ ও হত্যায় মেতে উঠেছে। জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তক উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু এরপরও টেলিভিশন ভাষণে সু চি তা অস্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাবে তিনি দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় তার দেশ ভীত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সু চি বলেছেন, অর্ধেকের বেশি রোহিঙ্গা গ্রাম সহিংসতায় আক্রান্ত হয়নি। নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে কেন তারা এক অপরের গলা চেপে ধরেনি তা দেখতে তিনি কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তার এই বক্তব্যের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত অঞ্চলে নিযুক্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক জেমস গোমেজ বলেছেন, ‘রাখাইন রাজ্যের ভয়াকহতা প্রকাশ না করে সু চি আজ দেখালেন তিনি এবং তার সরকার কাদায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করছে। তার বক্তব্য ছিল মিথ্যা এবং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে সাজানো।
তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী জাতিগত নির্মূলে লিপ্ত তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। সু চি যখন বলেছিলেন রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তখন আশা জেগেছিল। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকায় তিনি এখনো নিশ্চুপ।
গোমেজ আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী সমালোচনা উপেক্ষা করছে মিয়ানমার। চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের করে দেয়া কমিশন সমাধানের পথে তারা সহযোগিতা করবে না বলে বার বার বলে আসছে। মিয়ানমার যদি কিছু নাই লুকাবে তবে তাদের উচিত জাতিসংঘের তদন্তকারী দলকে দেশে ঢুকতে দেয়া। সরকারের উচিত দেশের সব এলাকায় মানবাধিকারকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে অবাধ প্রবশাধিকার দেয়া।








