কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে কোচিং সেন্টার থেকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। সেই হিসেবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু কিছু কোচিং সেন্টার সামনের দরজা বন্ধ করে পেছনের দিকে বা বিকল্প দরজা তৈরি করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অভিভাবকদের চাপে আবার কেউ কেউ নিজেদের তাগিদেই।
না, আমি কোচিং বাণিজ্যের পক্ষে বলছি না। কারণ এসব কোচিং সেন্টারে অনেক শিক্ষক আছেন, যারা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করিয়ে কোচিং সেন্টারে পড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। আর শিক্ষার্থীরাও দেখে ক্লাসে যেহেতু কিছু বোঝান না শিক্ষক, তাই শ্রেণী শিক্ষকের কোচিং সেন্টারে পড়ে বছর শেষে ক্লাস ডিঙানোর সহজ পথটি খুঁজে নেয়। না পড়লে যদি ওপরের ক্লাসে না উঠতে পারে! সেই ভয়টা তো থাকেই। বাবা মাও বাধ্য হয়ে টাকা খরচ করে সন্তানকে নিয়ে বিকেলের দিকে বের হন কোচিং সেন্টারের দিকে। আবার অনেক কোচিং সেন্টার আছে যেগুলো চালান অনেক ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই। নিজেদের পড়ার খরচ যোগানোর জন্য কয়েকজন মিলে খোলে কোচিং সেন্টার। কখনো তারা সফল হন আবার কখনো ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়।

প্রসঙ্গ সেটা না, প্রসঙ্গ হচ্ছে, কোচিং সেন্টার বন্ধ, তা হলে প্রশ্নফাঁস হওয়ার খবর রটলো কেন? অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র একাধিক ফেসবুক গ্রুপে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘খ’ সেট নামে ছড়ানো প্রশ্নপত্রের এমসিকিউ অংশের ঝাপসা একটি কপির সাথে মূল প্রশ্নের বেশ কিছু মিল দেখা যায়।
এখন কথা হচ্ছে বেশ কিছু মিল পাওয়া যাবে কেন? আর এই প্রশ্নের কপি কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালো? তারা দেশের বাইরে থেকে তো এই কাজটি করেনি।
ইতোমধ্যে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ‘দেখতে হুবহু হলেও কোনো মিল নেই ওই প্রশ্নের সাথে মূল প্রশ্নের। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রমাণিত হলে সাথে সাথে পরীক্ষা বাতিল।’
সরকারের উচ্চ মহল কি করে তা হলে? এই যে প্রশ্নফাঁস হবার জন্য কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হলো, ভালো কথা। কিন্তু এখন তা হলে প্রশ্নফাঁস করলো কারা?
সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কি তাহলে একটি মহল আড়ালে এই কাজটি করে যাচ্ছে? তা না হলে সরকার প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর জন্য যতই কঠোর হচ্ছে প্রশ্ন যেন ততই সহজভাবে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। অবলীলায় ঘটে যাচ্ছে ফাঁসের ঘটনা। এটা যেন কোনো ব্যাপারই না।
কোন ধরণের প্রশ্নফাঁস হয়নি? প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, এমনকি বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে।
সরকারের উচিত উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে না চাপিয়ে জায়গা মতো হাত দেওয়া। প্রশ্ন ছাপা হয় বিজিপ্রেসে। সেখান থেকে কিভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন, কারা সেই কার্যক্রমে জড়িত, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি চক্র ঘাপটি মেরেই থাকে সবখানে। সরকারের ছত্রছায়ায় মিশে গিয়ে সুযোগ বুঝে ওই কাজটি করে ফেলছে। সুতরাং সাধু সাবধান!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








