সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থা ও অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিগত সরকারের মেগা দুর্নীতির কারণে স্টেডিয়ামটির এই দশা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এই মাঠেই আগামী ৩০ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার যখন জোর করে ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা উন্নয়নের নামে শুধু মেগা দুর্নীতি করেছে। যার কারণে আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি অবিলম্বে স্টেডিয়াম সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন।
এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে দোকান বরাদ্দে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র খুঁজে পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। স্টেডিয়ামের বরাদ্দকৃত দোকানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় প্রতিমন্ত্রী দোকান মালিকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাকে জানান যে, তারা প্রতিটি দোকানের জন্য মাসিক ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া প্রদান করছেন।
তবে বিস্ময়কর তথ্য হলো, জেলা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী প্রতিটি দোকান থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে মাত্র ১,৫০০ টাকা। ভাড়ার বিশাল অংকের এই গড়মিল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে বাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ একটি অসাধু চক্র আত্মসাৎ করছে।
এই অনিয়ম দেখে প্রতিমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বরাদ্দ বাতিল এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সাতটি ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ এপ্রিল সিলেটসহ দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে যারা যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সরকার তাদের বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তি প্রদান করবে। এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণী থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খেলোয়াড়দের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা-এই লক্ষ্য নিয়ে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২৯ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় এই ভাতার আওতায় আসবেন।’
এর আগে প্রতিমন্ত্রী সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা দেখে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের আশ্বাস দেন। পরিদর্শনকালে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








