‘সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে’ এমন অভিযোগে সিরিয়ার ওপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া এবং চীন এর বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এর আগেও রাশিয়া সাতবার এবং চীন ছয়বার ভেটো প্রদান করে।
প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ দেশটির বেসামরিক নাগরিকেদের উপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও দেশটির সরকার তা অস্বীকার করে আসছে। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র তদারকি সংস্থা ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে সিরীয় সরকারের তিনটি রাসায়নিক হামলার প্রমান পায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৫ সালের মার্চে এবং ২০১৪ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে যুদ্ধ সংঘটিত এলাকায় ক্লোরিন গ্যাস ফেলে। এছাড়া কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সেখানে সালফার গ্যাসের হামলা চালায়।

এমতাবস্থায় জাতিসংঘ সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স এ নিষেধাজ্ঞার খসড়া তৈরি করে। এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার কাছে হেলিকপ্টার বিক্রি বন্ধ এবং রাসায়নিক হামলার সাথে জড়িত কমান্ডার এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্য এ খসড়ায় সমর্থন দিলেও চীন, রাশিয়া এবং বলিভিয়া ভেটো দিয়েছে। তবে মিশর, ইথিওপিয়া এবং কাজাখস্তান কোন সিন্ধান্ত দেয়নি।যদিও নিরাপত্তা পরিষদের কোন সিন্ধান্ত অনুমোদনের জন্য স্থায়ী ৫ সদস্যের ভোট ছাড়াই নয় সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘পুরোপুরি অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আর জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিও জিয়েই বলেছেন, ‘বেইজিংও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে। কিন্তু যেখানে সিরিয়ায় এখনো অনুসন্ধান চলছে, সেখানে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ খুব দ্রুত হয়ে যায়।’








