কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে চিকন আলীর ক্যারিয়ার প্রায় একযুগ। এরমধ্যে মুক্তি পেয়েছে চিকন আলী অভিনীত প্রায় সোয়া দুইশো সিনেমা। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে রুপালী পর্দার পরিচিত এই অভিনেতার হাতে এখন কোনো নতুন সিনেমা নেই। বাসায় শুয়ে-বসে দিন পার করছেন তিনি। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে নিজের বর্তমান অবস্থাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেন তিনি।
সিনেমায় কোনো কাজ হচ্ছে না জানিয়ে বাধ্য হয়ে এই পেশা পরিবর্তনের চিন্তা করছেন বলেও জানান চিকন আলী। বলেন, সিনেমার এই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরোপুরি হতাশ। কী করবো, ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের বিষয়টিও ভাবছি।
তিনি বলেন, ১২ বছর আগে যখন সিনেমায় কাজ শুরু করি একদিনে তিন-চারটে ছবির শুটিং করেছি। তুমুল ব্যস্ত সময় পার করতাম। এখন এই চিত্র পুরোটাই উল্টো। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘মনে রেখো’ ‘জান্নাত’ ছবিতেও কাজ করেছি। এর শুটিং হয়েছে অনেক আগে।
চিকন আলী বলেন, আমি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক নম্বর কমেডিয়ান। অথচ ছয়মাস হলো নতুন কোনো ছবিতে সাইন করিনি। তিনমাস সিনেমার শুটিং করি না। ‘শাহেন শাহ’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু ওই ছবির শুটিং শুরু হলো না। আদৌ হবে কিনা জানি না। এখন আমার হাতে নতুন কোনো সিনেমা নেই, বেকার হয়ে গেলাম। শুধু আমি নয়, আমার মতো অনেকেই বেকার। কি করবো, কি হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।
কাজ না থাকলেও জীবনতো থেমে থাকে না, তাই নিজের ‘সি এ ইউটিউব চ্যানেল’ এর জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন জনপ্রিয় ওই অভিনেতা।
এ বিষয়ে চিকন আলী বলেন, প্রতিমাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। এছাড়া দৈনন্দিন আরও খরচ তো আছেই। ইউটিউব থেকে আগে ভালো ইনকাম করতাম। এখন তাও কমে গেছে। ইউটিউবে ইদানিং অনেক চ্যানেল থেকে ভালগার ভিডিও ছাড়া হচ্ছে। মানুষ ওসব বেশি দেখছে। গত তিনমাস ধরে ইউটিউব থেকে টাকা পাচ্ছি কম। ইউটিউবে এখন আমার অবস্থা খুবই খারাপ। নাটকেও কাজ করতে পারছি না। কারণ পারিশ্রমিক কম। শীত মৌসুম আসছে। স্টেজ প্রোগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হবে। ওইদিকে তাকিয়ে আছি।
নতুন ছবি কেন নির্মিত হচ্ছে না? জানতে চাইলে চিকন আলী বলেন, প্রযোজক সংকট। যারা নিয়মিত ছবি বানাতেন তারা বানাচ্ছেন না। বড় বাজেটের ছবি নির্মিত হচ্ছে না। ভালো টেকনিশিয়ান দরকার। নতুন অনেক পরিচালক আছেন, যাদের সুযোগ দিলে ভালো ছবি নির্মাণ করতে পারবেন, তারা ছবি পাচ্ছেন না। এখন নতুন মুখের মাধ্যমে শিল্পী খোঁজার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দরকার তো প্রযোজক, শিল্পী দিয়ে কী হবে? শুধু শুধু বেকার বাড়বে। নতুন যারা আসছেন, তাদের কাজের গ্যারান্টি কে দেবে?
তিনি আরও বলেন, কলকাতার শিল্পীদের বেশি কাজে নেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিতে আমার কাজের কথা ছিল। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে কলকাতা থেকে শিল্পী নেওয়া হলো। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশের যেসব ছবি হচ্ছে এখানে কমেডিয়ানদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো ভালো সিনেমায় দেখা যায় কমেডি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চরিত্রের গুরুত্ব থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের ঠিক তার উল্টো।
কথায় কথায় জানালেন, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বিভক্তি ও দলাদলি তাকে কষ্ট দেয়।








