গুলশানের হলি আর্টিজানে দায়িত্বপালন করতে গিয়ে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমাকে দেয়া ৫২৫ টাকা মজুরির ‘উচ্চমান সহকারি’ পদের নিয়োগপত্রটি প্রত্যাহার করে প্রশানসিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগপত্র দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এরআগে তাকে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়।
তাকে প্রত্যাশিত পদেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।
চ্যানেল আই অনলাইনকে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন,‘সাধারণত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর পদে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে এমন প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেয়া হয়। এসব দিক পর্যালোচনা করেই আমরা উম্মে সালমাকে উচ্চমান সহকারি পদে নিয়োগপত্র দিয়েছিলাম। কিন্তু নিয়োগপত্রটি দেয়ার পরই সবার আপত্তি, অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখন তাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে।সাধারণত এমনটা হয়না। রবিউল করিম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন একসময়। আমরা তাঁর স্ত্রীকে মর্যাদাপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার আন্তরিক চেষ্টা করেছি।’
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণী) পদে আবেদন করেছিলেন গুলশান হামলায় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা। আবেদনের পর ওই পদে নিয়োগের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিটির সভায় আসতে তাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডেপুটি রেজিস্ট্রার। কিন্তু ৬ জুলাই সালমাকে তৃতীয় শ্রেনীর পদে যোগদানের নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে লেখা ছিলো,‘অফিস আদেশ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, মিসেস উম্মে সালমা ( পিতা: মোঃ শাহজাহান, মাতা: আফরোজা বুলবুল, স্বামী- রবিউল করিম) কে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার অফিসে উচ্চমান সহকারি পদে মাস্টাররোল ভিত্তিতে (কাজ করলে মজুরী) দৈনিক ৫২৫টাকা মজুরীতে ৯০দিনের জন্য নিয়োগ দেয়া হলো। এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট অনুযায়ী তা জন্ম তারিখ২৭-০৫-১৯৮৩।এই নিয়োগ যোগদানের তারিখ হতে কার্যকর হবে।’
এমন চিঠি পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বামীর মরনোত্তর বিপিএম পদক গ্রহণ করা সালমা।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেছিলেন,‘আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ওই পদের জন্য আবেদন করেছিলাম। মৌখিক পরীক্ষাও দিয়েছিলাম। অথচ দৈনিক মজুরির তৃতীয় শ্রেণীর পদে আমার নিয়োগপত্র এসেছে। কোনো করুণা চাইনি আমি। সব প্রক্রিয়ার পর তৃতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগপত্র পাওয়াটা আমার কাছে অপমানজনক মনে হচ্ছে।’
করুণা নয়, বরং সব দিক বিবেচনায় নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্রটি প্রত্যাহার করে কাঙ্খিত পদে তাকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছিলেন শহীদ পুলিশের স্ত্রী।








