চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

যেভাবে জিডিপি আরও ১/২ শতাংশ বাড়তে পারে

রাজু আলীমরাজু আলীম
২:৩৮ অপরাহ্ন ০৭, সেপ্টেম্বর ২০১৯
অর্থনীতি, সাক্ষাতকার
A A

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসরুর আরেফিন। এর আগে তিনি এই ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান হিসেবে যোগ দেন ২০০৭ সালে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অতিরিক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএমডি হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৫ সালে গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। মাসরুর আরেফিন এর জন্ম ১৯৬৯ সালে।

বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন তিনি। পাঠ, অনুবাদ ও ব্যক্তিগত সাহিত্য চর্চা কাফকা গবেষণার শুরু ১৯৯০ সালে। তার প্রকাশিত প্রথম বই কাব্যগ্রন্থ ঈশ্বরদী, মেয়র ও মিউলের গল্প (২০০১), যা প্রথম আলোর সে বছরের নির্বাচিত বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। কাফকা ও হোমারের ইলিয়াডের অনুবাদ করে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন। গেল একুশে বইমেলায় মাসরুর আরেফিন তার প্রথম উপন্যাস আগস্ট আবছায়া লিখে ব্যাপক আলোচিত হন। সম্প্রতি স্বনামধন্য এই ব্যাংকার ব্যক্তিত্ব ও সাহিত্যিক মাশরুর আরেফিন কথা বলেন একান্ত সাক্ষাতকারে।

প্রশ্ন: দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নতুন ব্যাংক আইন প্রণয়ন ও ব্যাংক কমিশন গঠনের চিন্তা ভাবনা চলছে। এই ব্যাপারে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মাসরুর আরেফিন: এটি একটি শুভ পদক্ষেপ। যেটি হতে যাচ্ছে এখনো পর্যন্ত আমাদের দেশে হয়নি।  কিন্তু পাশের দেশ ইন্ডিয়া করে ফেললো বেশ কিছুদিন আগে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এটি হয়েছে। আমাদের দেশে দুই ধরণের ব্যাংক। একটি গুড ব্যাংক ও আরেকটি ব্যাড ব্যাংক। তাই ভালো ব্যাংকগুলোকে সামনে এগিয়ে এসে খারাপ ব্যাংকের সাথে মার্জার করে দিলে ভাল হবে। ঝুঁকি আছে- ব্যাড ব্যাংক হলো শরীরের পচন আর গুড ব্যাংক হলো সুস্থ শরীর। তাই এই পচন যেন আবার সুস্থ শরীরে না ছড়ায়। সো, ইটস ভেরি ট্রিকি ইস্যু। অ্যাকুজিশন বা মার্জার একটা ব্যাংকিং সেক্টরে ম্যানেজ করার জন্যে এর বিশাল কালচারাল দিক আছে। এর বিশাল দলাদলির দিক আছে। এই ব্যাংক ওই ব্যাংকে নিচ্ছে।

সুতরাং আমাদেরকে যারা নিচ্ছে তাদের কাছে আমরা ঠিকমতো মার্জড হবো কি না? অন্যদের থেকে অভিজ্ঞতা নিতে হবে সুস্থ মার্জার এর জন্যে। এই দেশে কিন্তু মার্জার বা অ্যাকুজিশনে আমরা দেখেছি বিদেশীদের। বাংলাদেশের এএনজেড গ্রীনলেজ ব্যাংককে অ্যাকুজিশন করলো বাংলাদেশের স্ট্যাডার্ড চাটার্ড ব্যাংক। এই খানে কিন্তু গুড ব্যাংক ব্যাড ব্যাংক ছিল না। দুটিই গুড ব্যাংক ছিল। এটি ছিল সহজ।  কারণ সুস্থ শরীরের সাথে সুস্থ শরীর এসে মিশেছে। ব্যাড ব্যাংক থেকে কালচারাল প্রাকটিস যার কারণে তারা ব্যাড ব্যাংক হয়েছে তা যেন আবার নতুন ব্যাংকে নিয়ে না আসে। তাই পুরো বিষয়ে আমাদের কনসালটেন্সি দরকার- বিশ্বের ভাল ভাল জায়গা থেকে। কিভাবে এ ব্যাংক বি ব্যাংককে আত্মীকরণ করবে? তাদের পিপলগুলোরও চাকরি ক্যারিয়ার নিশ্চিত করবে। তাদের দিকটাও দেখবে। দুটো মিলে যাতে একটা হারমনি তৈরী হয়।

এই বিষয়ে বিশ্বের কেস স্টাডিগুলো দেখলে দেখা যায় যে, কালচারাল ইস্যুগুলো এই জাতীয় মার্জার বা অ্যাকুজিশনকে নষ্ট করে। এটি ম্যানেজ করা খুব জরুরী। ফাইন্যান্স ম্যানেজ হয়ে যাবে। দুটো ব্যালেন্সশীট মার্জ করে দিলেন। দুটো ব্যাংকের কাস্টমার মিলে একটা ব্যাংকের কাস্টমার হয়ে গেলো। দুটো ব্যাংক মিলে সব ব্র্যাঞ্চগুলোতে তাদের ব্র্যান্ডিং হয়ে গেলো। কাস্টমাররা দুই ব্যাংক মিলে একসাথে সেবা পাচ্ছেন। দুই ব্যাংকের চেক বুক এক ব্যাংকের চেকবুক হিসেবে পাচ্ছে। দিস আর অল অপারেশনাল ইস্যুজ। যেটা ম্যানেজ করা সহজ। কিন্তু কোন প্রকার কালচারাল ইম্প্যাক্ট যদি ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়? দুই ব্যাংকের কর্মীদের আশা প্রত্যাশা যদি ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়? তাহলে সমস্যা।

প্রশ্ন: বিদেশী ব্যাংকের সাথে সার্ভিসের তুলনা করলে আমাদের ব্যাংকগুলো কতোটা ডিজিটালি আপগ্রেড অবস্থায় আছে?
মাসরুর আরেফিন: আমরা নিজেরা খুব ভাল ভাবেই আপগ্রেডেড অবস্থায় আছি। বিদেশী বা রিজিওনাল ব্যাংকগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, তারা আমাদের চেয়ে ইফেক্টিভনেসের দিক দিয়ে একটু মোর ইফেক্টিভ। আমাদের এখানে কিছু লিগ্যাসি এবং পুওর কোয়ালিটি স্টাফ আছে। বাংলাদেশের ম্যাক্রো ইকনোমিক সিচুয়েশনের কারণে তাদের সাথে আমরা কোন কিছু করতেও পারছি না। আমাদেরকে অন্য দিকও দেখতে হয়। ব্যাংক চালাতে শুধু প্রফিটই নয়। আমাদের পিপল সাইডও দেখতে হয়। কারণ এই দেশের অর্থনীতি এবং নতুন উন্নয়নশীন রাষ্ট্র- এখানে এতোটা নির্মম হওয়া যায় না, বিদেশে যেভাবে হয়। তাদেরকে সাথে নিয়েই আমাদের চলতে হয়। কিন্তু আপনি যদি সিস্টেম ক্যাপাবিলিটি কিংবা এইচ আর প্রাকটিসেস বলেন, ডিজিটাল সাইডে আমাদের সব অ্যাক্টিভিটির কথা বলেন- আমরা ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইংল্যান্ডের কোন ব্যাংক থেকে কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। আমাদের সিটি ডাচ ডিজিটাল ব্যাংকিং– এটি একটি ওর্য়াল্ড ক্লাস ডিজিটাল ব্যাংকিং সল্যুউশন।

Reneta

আমাদের দেশেরই তো বিকাশ। আমরা আমেরিকান এক্সপ্রেসের সাথে কাজ করছি। এই সিটি ব্যাংকই তো আমেরিকান এক্সপ্রেস যারা থার্টি এইট পার্সেন্ট মার্কেট শেয়ার। আমাদের কার্ডে তো কোন কমপ্লেন নাই। পাঁচ লক্ষ মানুষ ইউজ করছে আমাদের কার্ড। টোটাল মার্কেটের যা থার্টি এইট পার্সেন্ট। আমাদের টোটাল পাওয়ার সেক্টরে ফাইন্যান্সিং বলেন- এই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেশে যা নতুন পাওয়ার জেনারেশন হয়েছে সিটি ব্যাংক তার বিশ পার্সেন্ট একা ফাইন্যান্সিং করেছে। আমাদের সাথে সামিট থেকে শুরু করে সমস্ত বড় বড় পাওয়ার কোম্পানী আছে। আমাদের কার্পোরেট সাইড, রিটেইল সাইড, ডিজিটাল সাইড ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, ক্রেডিট কার্ড ব্যবসার সলিডিটি বলেন- দেশে বিদেশে আমাদের কার্ড ব্যবহার করেন। আমি তো কোথাও আমাদেরকে পিছিয়ে থাকা দেখি না। পিছিয়ে থাকার তো প্রশ্নই আসে না। আমি তো চাচ্ছি যে, আমাদের থেকে তারা শিখবে যে, কিভাবে ব্যাংকগুলো দুয়ার খুলতে পারে সবার জন্যে।

সিটি ব্যাংকের প্রধান স্বপ্ন হলো এখন দেশের জনগণের ব্যাংক হওয়া। মডার্ন যুগের আধুনিক পিপল ব্যাংক হওয়া। আমাদের এখন ২০ লাখের মত কাস্টমার বেজ। আমি তাতে মোটেও খুশি নই। ২০ কোটি লোকের দেশে কিভাবে আমি ২/৩ কোটি লোকের কাছে আমরা যেতে পারি সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।  যেভাবে টেলকো পৌছেছে। আমরা যে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে যাচ্ছি এতো বড় আকারে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যেতে চাচ্ছি বড় আকারে। ফোনের মধ্যে সব ধরণের ব্যাংকিং সেবা দিতে চাচ্ছি। সিটি টাচ তার প্রথম ধাপ একটা। আমরা এখন এমন একটি সেবা করে ফেললাম যেটি সাউথ এশিয়াতে প্রথম। ইন্সট্যান্ট অ্যাকাউন্ট ওপেনিং। ইন্সট্যান্ট অ্যাকাউন্ট খুলে ওই মুহুর্তে আপনার নামে ডেবিট কার্ড পাবেন। আপনার নামে ছাপা হওয়া ডেবিট কার্ড। অন্য যে কোন ব্যাংকে যা তিন থেকে সাত দিন লাগবে। সাথে সাথে আপনার ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের অ্যাক্টিভেশন নোটিশ পাবেন এবং ট্রানজেকশন অ্যাকাউন্ট ওই মুহূর্ত থেকে শুরু করতে পারবেন। এই সব জিনিস সাউথ এশিয়াতেই আমরা প্রথম করতে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: একই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্ডারে সরকারি ব্যাংকের সাথে প্রাইভেট ব্যাংকের পার্থক্য কতোটা?
মাসরুর আরেফিন: অনেক পার্থক্য। আপনি মার্কেট শেয়ার দেখেন। সরকারি ব্যাংকগুলোর মার্কেট শেয়ার কিভাবে পড়ে গেলো আর প্রাইভেট কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোর মার্কেট শেয়ার কিভাবে বাড়লো? আকাশ পাতাল- চিন্তারও বাইরে। মানুষ কি পরিমাণে প্রাইভেট ব্যাংকের উপরে আস্থা রেখেছে। তার মানে কি? সেবার নিশ্চয়তার ব্যাপারে মানুষ সেনসেটিভ হয়ে গেলো। একটা ফিক্সড অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করতে বললাম, তুমি সাত দিন পরে করবে কিংবা করবেই না। একটা চেক বুকের জন্যে কার কাছে যেতে হবে তা জানি না। পৃথিবী যখন একীভূত হয়ে যেতে লাগলো- মানুষ জানতে লাগলো যে, কল সেন্টার নামে একটা জিনিস আছে। আমি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের মালিক। ব্যাংক আমাকে যা খুশি তাই বলতে পারবে না। আমার টাকায় ব্যাংক চলে। আমার সেবা পাওয়ার অধিকার আছে। মানুষ যখন সেবার স্বাদ পেতে লাগলো।

বাংলাদেশ থেকে বাইরে ফরেন ট্রাভেল বাড়তে লাগলো। মানুষ নিজের চোখে বাইরে দেখে আসতে লাগলো। এরপরে মানুষ বুঝে গেলো যেন তেন সেবায় সে আর খুশি না। এতে কী হলো? সরকারি ব্যাংকগুলো ম্যানুয়াল। অন্যদিকে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো অনলাইনে চলে গেলো। ডেবিট ক্রেডিট কার্ড আসলো। এটিএম মেশিন দেওয়া শুরু হয়ে গেলো। ইন্টারনেট ব্যাংকিং এলো। পার্সোনাল লোন দেওয়া শুরু হলো। মানুষ নিজের টাকা রাখলো কিন্তু সেই টাকার নিরাপত্তা? সরকারি ব্যাংকগুলো টাকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়নি। সার্ভিসের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আর ওই ফাঁক দিয়ে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো ঢুকে সার্ভিসের নিশ্চয়তা দিয়েছে। আর এতেই সরকারি ব্যাংকগুলো মার্কেট শেয়ার আপ থেকে ডাউন হয়ে গেলো। তা প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর দিকে ঝুঁকে গেলো।

এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী পাঁচ বছর পরে কয় জন লোক আর ব্যাংকে যাবে? ব্যাংক আর পেমেন্ট সার্ভিস তখন একীভূত হয়ে যাবে। ব্যাংক হবে পেমেন্ট বেহিক্যালের আরেকটি বেহিক্যাল। যারা পেমেন্ট সার্ভিসটা দেয়। দোকানগুলো হয়ে যাবে বায়িং অ্যান্ড শপিংয়ের একটা পয়েন্ট। দোকান তার মাল তুলছে আর মাল বিক্রি করছে। ব্যাংকগুলো দোকানের ভেতরে ভেতরে ঢুকে যাবে। ওইটা দোকান আর ওই দোকানেই তার এজেন্ট ব্যাংক বসা। আর যার এজেন্ট ব্যাংক নাই। তার মেশিনও লাগবে না। সে মোবাইল দিয়েই ক্রেতা মোবাইল টু মোবাইল দোকানে টাকা ট্রান্সফার করবে। এখনই বিকাশে টাকা তুলছে। পুরো ল্যান্ডস্কেপ বদলে যাচ্ছে। যে টেকনোলজিক্যালি এই অ্যাডভান্টেজগুলো নিয়ে এগিয়ে থাকতে পারবে সেই এগিয়ে থাকবে আসলে।

প্রশ্ন: বিকাশ ব্যাংকিং এর মত প্রডাক্ট ছাড়তে চাচ্ছে প্রায় সব ব্যাংকই। কিন্তু কেউ বিকাশের কাছাকাছি যেতে পারছে না। এর কারণ কী?
মাসরুর আরেফিন: না, আসলে বিকাশের এরিয়া আলাদা আর আমাদের এরিয়া আলাদা। বিকাশ থেকে আমরা কী নিলাম? বিকাশ থেকে আমরা এইটুকুই বুঝলাম যে, মার্কেটটা অ্যাকচুয়ালি অনেক বড়। আমরা যেমন, দশ থেকে পঁচিশ লাখের মধ্যে বাংলাদেশের সবগুলো ব্যাংক। প্রথমে টেলকোগুলো দেখাল যে, ৭ কোটিও কাস্টমার হতে পারে। বিকাশ দেখাল যে, মানুষ ম্যাট্রেসের নিচে যে পয়সা রাখে, সেই পয়সা সে সিস্টেমের মধ্যে আনতে চায়। যদি আপনি মানুষকে তার রাইট বেহিক্যালটা দেন। যেমন, সুন্দরবন কুরিয়ারে আগে হতো। বিকাশ এখনো কিন্তু মানি ট্রান্সফারের একটি বেহিক্যাল হয়ে পড়ে আছে। বিকাশের লাইসেন্স নাই ডিপোজিট রাখার। বিকাশের লাইসেন্স নাই কাউকে লোন দেওয়ার। বিকাশ থেকে আমরা শক্তি ও সাহস নিয়েছি।

মাসরুর আরেফিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, সিটি ব্যাংক লি.

প্রশ্ন: গ্রামীণ জনপদে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিকাশ?
মাসরুর আরেফিন: শুধু গ্রাম নয়, সব জায়গায়ই। বিকাশ আমাদেরকে দেখিয়ে দিলো যে, সো কলড নন ব্যাংকিং কাস্টমার গ্রুপ ব্যাংকিং সিস্টেমে আসতে অনিচ্ছুক না। কারণ টেকনোলজির অ্যাডাপটেশন তারা করে ফেলেছে। তারা মোবাইল ব্যবহার করা শিখে ফেলেছে। তারা জানে কী করে মোবাইল সিম নিয়ে ইন্টারনেট সেবা পেতে হয়। আগে একটা ধারণা ছিল যে, তারা বোধ হয় কিছুই জানে না, কিছুই বোঝে না। সুতরাং ব্যাংক ওই সো কলড শিক্ষিত মিডিল ক্লাসদের সাথে থাকত। কিন্তু বিকাশ এই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। তারা দেখিয়ে দিলো যে, ম্যাট্রেস মানি মেইনস্ট্রিম ব্যাংকিংয়ে আসে, যদি তুমি আনতে জানো। এখন এটি একটি রেগুলেটেড ইন্সটিটিউশন। আর যখন এসএ পরিবহন বা সুন্দরবন কুরিয়ারে টাকা পাঠাতো তখন এটি রেগুলেটরি সিস্টেমের বাইরে চলে যেতো। ব্যাংকিং সিস্টেমের ভেতরে আসতো না। বিকাশ এটি ফরমালাইজড করে ফেললো। করে তাদের ওই ডিপোজিটগুলো তো আমাদের মত ব্যাংকগুলোতেই তারা রাখে। এখান থেকে আমরা সাহসটা পেলাম যে, মার্কেট অনেক বড়। স্কেল একটা মিথ। আমার স্কেল আমি ছোট করে রেখেছি। স্কেল অনেক বড়। ২০ কোটি লোকের দেশ। বিকাশ পারে না লোন দেওয়া এবং ডিপোজিট রাখা। তাদের সেই লাইসেন্স নেই। কিন্তু আমরা তো তা পারি। সো, বিকাশ পেমেন্ট এরিয়াতেই থাকুক।

প্রশ্ন: আপনাদের প্রডাক্টের নাম কী? কোন প্রডাক্ট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন?
মাসরুর আরেফিন: না, আমরা কোন প্রডাক্টের নাম দেইনি। আমরা টোটাল ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রজেক্ট চালাচ্ছি। আমরা বিকাশের সাথে কাজ করছি টেলকো কোম্পানীর সাথেও কাজ করছি। বিদেশী মার্কেটগুলোতে আফ্রিকাতে ও ল্যাতিন আমেরিকাতে রেভ্যুলেশনটা কিভাবে হলো? সেখানে ট্রিপিক্যালি ৭ লাখ বা ১০ লাখের ব্যাংকগুলো হঠাৎ দেখা গেছে এক বছরের মধ্যে আড়াই বা তিন কোটি লোকের ব্যাংক হয়ে গেছে। আমরা ওইটা বোঝার চেষ্টা করছি যে, কোন জায়গায় এসে ফরম্যাল ট্রাডিশনাল ব্যাংকিং আর এই যে, পেমেন্টভিত্তিক মানি ট্রান্সফার কিন্তু জনগোষ্ঠি একই কিন্তু কোন জায়গায় এসে এরা দুজন এক সাথে মেলে? কে মেলে এবং কিভাবে মেলানো যায়?

প্রশ্ন: সম্প্রতি একটি ব্যাংক রেডিসনে বড় করে উদ্বোধন করলো। সম্প্রতি তারা রবি বা এয়ারটেলের সাথে যাচ্ছে?
মাসরুর আরেফিন: জ্বি। এটি ট্রাস্ট ব্যাংক। এতে বিকাশের জন্যে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরী হলো। একটা ব্যাংক সাথে এসেছে। টেলকোর কাছে প্রচুর ডেটা আছে আর ট্রাস্ট ব্যাংকের আছে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লাইসেন্স- লোন এন্ড ডিপোজিট। এখন ট্রাস্ট ব্যাংক যদি স্মার্টলি টেলকোর কাছে যে ডেটার যে কাস্টমার বেইজ আছে তা নিয়ে যদি কাজ করতে পারে, ওই ডেটার মধ্যে সব শক্তি আছে যে, কোন কাস্টমার কোন অ্যাকাউন্ট খুলবে আর কোন কাস্টমারের কোন লোন লাগবে। বিশাল সামাজিক উন্নয়নের বিরাট সম্ভাবনা আছে পুরো জিনিসটার মধ্যে। ব্যাংক ও ইন্টার ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশন ঠিক মতো হলে, ব্যাংক, টেলকো ও বিকাশের মত পেমেন্ট কোম্পানীর ত্রিভুজ কোলাবরেশন হলে দেশের জিডিপি ১/২ শতাংশ বেড়ে যাবে।কারণ ইন্টার ইনফরমাল মানিগুলো যেগুলো এখন ম্যাট্রেস বা বালিশের নীচে পড়ে আছে। তা সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে যাবে। তার পরিমাণ প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা।

প্রশ্ন: আপনাদের সেবাগুলো কী কী? কেন আপনারা অন্যদের থেকে আলাদা?
মাসরুর আরেফিন: সেবার চেয়ে আগে আসি- একটা গর্ভনেন্স লাগে। সুশৃংখলতা লাগে- একটা ডিসিপ্লিন লাগে যাতে করে আপনি ব্যাড ব্যাংক না হয়ে যান। শুধু আর্থিক করাপশন না। যেমন, যাবতীয় সব ডকুমেন্টারী করাপশন শুরু হয়ে যাবে যদি গর্ভনেন্স ভেঙে পড়ে। এই জায়গায় আমাদের ভাল শক্তি যে, এখানে বোর্ড অব ডিরেক্টরস যারা আছেন। এমনকি আমাদের কারেন্ট চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার সাহেব। তারা এতো বেশি গর্ভনেন্সি এন্ট্রি যে, নিয়ম কোনভাবেই ভাঙা যাবে না। নিয়ম ভেঙে কোন কিছু করার কোন কিছু আমরা চাই না। দরকার হলে প্রফিট করো না। আগে কম্প্ল্যায়েন্স করো।এর উপরে আবার বোর্ড এ এসেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএফসি। উই আর দ্য অনলি ব্যাংক যারা কিন্তু আমাদের বোর্ডের পাশে। তাই গর্ভনেন্স তো তারা প্রতি মুহূর্তে দেখে। একটু আগে আপনার সাথে কথা বলছিলাম। আমার কিন্তু ওই আইএফসি থেকেই ফোন এসেছে ব্যাংকের একটি ব্যাপারে। আপনি নিজে শুনলেন যে, তারা কিভাবে আমাদের গর্ভনেন্স সাইড দেখে। তারা সবসময়ই বলে আমাদেরকে রাইট রাস্তায় হাঁটতে- ভুলে না যেতে। ওই ফ্রেমওয়ার্কে থাকার কারণেই চলে আসে কাস্টমারদের জন্যে সেবার গ্যারান্টি।

কাস্টমাররা ব্র্যাঞ্চে ব্র্যাঞ্চে যাচ্ছে যাতে তারা রাইট সেবা পায়। রাইট সেবার সংজ্ঞা কী? একটা জিনিস তিন দিনে পাওয়া রাইট নাকি ৩০ মিনিটে পাওয়া রাইট? বাংলাদেশে তো এর সংজ্ঞাই নাই। সো, আমরা এইগুলো ডিফাইন করেছি। ডে লেয়েটের সাথে কাজ করি কন্স্যালটেন্সি ফার্ম। আমরা পিডাব্লিউসি’র সাথে কাজ করি। কতো দিনে কোন জিনিস গ্লোবালি মানুষ পায়? কেন একটা এলসি খুলতে এই ব্যাংকে এতো টাইম লাগে? কেন একটা সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং চেক বুক দিতে তিন দিন লাগছে? কেন একটি ডেবিট কার্ড খামে করে কুরিয়ারে আপনার কাছে যেতে ৩ দিন লাগছে। কেন একটা বাজে কুরিয়ার নেওয়া হচ্ছে? কেন ডেবিট কার্ড প্রিন্ট করে এই মুহুর্তে ক্লায়েন্টকে হাতে হাতে দিয়ে দিচ্ছি না? বেসিক জায়গা থেকে শুরু হয়। ৫৪ ধরণের সেবা দেওয়া হয় ব্র্যাঞ্চ থেকে। আমরা প্রায় ৫৪ টি সেবা এনালাইজড করেছি বিদেশি কন্স্যালটেন্ট দিয়ে।

এই মুহুর্তেও কিন্তু প্রজেক্টটা চলছে ডে লয়েটের সাথে। এইগুলো আমাদের বিরাট শক্তি। এইচআর সাইডে রাইট মানুষ। রাইট ট্রেন্ড। পৃথিবীর আট বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ কোম্পানী তারা আমাদের হিউম্যান রিসোর্সের সাথে কাজ করছে। পুরো আইটি রিস্ট্যাকচারিং। আমরা আর্নেস্টাং ইয়াং এর সাথে কাজ করছি। কারণ এটি আইটি’র যুগ। ব্যাংককে আগে হতে হবে ডিজিটাল কোম্পানী তার পরে ব্যাংক। কারণ এটি আইটি’র যুগ। এই চেষ্টাই আমরা করছি। ডিজিটাল কী করেছে? সেবা ভাল করে দেওয়ার জন্যে বিভিন্ন পথ করে দিয়েছে। সবার হাতে আই প্যাড। সবার বাসায় ইন্টারনেট সেবা। তাই আমরা ফুললি ডিজিটাল সেবা দিতে চাচ্ছি।

প্রশ্ন: ব্যাংকে অনেক ধরণের আর্থিক অনিয়ম হয়। এই ক্ষেত্রে এমডি ও সিইও হিসেবে কোনো চাপ আপনার উপরে আসে কিনা?
মাসরুর আরেফিন: বোর্ডের ব্যাপারে বলবো- আমরা ২০০৭ এ এই ব্যাংকে এসেছি বিদেশী ব্যাংকের যারা আমরা ব্যাংকার। সিটি ব্যাংক তো চোখের সামনে হলো। আজকে ১২ বছর- কোথায় ব্যাংক ছিল আর আজকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক।তিনটা বড় ব্যাংকিং ব্র্যান্ডের একটা। এখানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ব্যাংকের বোর্ডে আছে। এখানে আমেরিকান এক্সপ্রেসের মত কোম্পানী এককভাবে আমাদের সাথে আছে। এই রকম একটা জায়গায় যদি বোর্ডের সহায়তা না থাকে, আপনি বললেন লোনের জন্যে চাপ প্রয়োগ করা যেগুলো বাংলাদেশে ব্যাধি। সিটি ব্যাংক এই ব্যাধি থেকে সম্পুর্ণ মুক্ত। বোর্ডের ডিরেক্টটরা মিটিংয়ের দিনে আসেন। তারা মিটিংয়ে কন্ট্রিবিউট করেন। চেয়ারম্যান সাহেব আমার সাথে বিভিন্ন স্ট্যাটেজিক কথা বলেন। আমাদের দুজন খুবই ভাল ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর আছেন একজন ফারুক সোবহান, যিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। আরেকজন ব্যারিস্টার তানজিবুল আলম- এরা বোর্ডে আছেন। আইএফসি বোর্ডে আছে। তাই আমাদের বোর্ডে যে কন্ট্রোল। ধরেন, অন্য ব্যাংকের ব্যাধি যেন এই ব্যাংকে না আসে তার জন্যে এর ফ্রেমওয়ার্ক গেলো ১২ বছরে শক্ত অবস্থানে পৌছেছে। ১৩ জন ডিরেক্টর কেউই কোন অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন না।

প্রশ্ন: আপনাদের অনেক এক্সক্লুসিভ ব্যাংকিং প্রডাক্ট আছে। সম্প্রতি আপনারা সিটি আলো লাউঞ্চ করেছেন। আপনাদের ফোকাস কোন কোন বিষয়ে?
মাসরুর আরেফিন: আমাদের ফোকাস দেখেন- এজেন্ট ব্যাংকিং, অল দ্য প্রজ মেশিন যেগুলোর এখন কিউ আর কোড আসবে। যেগুলো ওয়ালেট টু ওয়ালেট ট্রান্সফার হবে দোকানে দোকানে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমরা এখনো ছোট। ১০০ কোটি টাকার মত ডিপোজিট। এজেন্ট ব্যাংকিং প্রজ মেশিন মিলে যে মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং আছে অর্থ্যাৎ যাকে আমরা পেমেন্ট বলছি। আর যে জিনিসটা আছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং যেটি সিটি টাচ। সবগুলো এক জায়গায় মিলে নতুন ডিভিশন তৈরী হয়েছে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এখানে জয়েন করেছেন বিকাশের একজন সিনিয়র ব্যক্তি। যিনি জয়েন করে নতুন করে কাজ শুরু করেছেন। এই সব নতুন জিনিস আপনারা দেখবেন সামনে।

প্রশ্ন: এই ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি কোন পর্যায়ে আছে?
মাসরুর আরেফিন: এই বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকের প্রফিট বাড়লো থার্টি নাইন পার্সেন্ট। প্রবাবলি আমরা হাইয়েস্ট প্রফিট করেছি। আমাদের উপরে একটি ব্যাংক আছে। আমাদের হারে আর কোন ব্যাংক প্রফিট করতে পারেনি। ব্যাংকের ব্যালেন্সশীট দ্রুত বাড়ছে। ব্যাংক আরও বড় হচ্ছে। আমরা নতুন আর কোন ব্র্যাঞ্চ খুলছি না। আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং করবো আর ডিজিটালি সব সেবা আমরা দিয়ে যাবো। বুথ আমরা এক্সপ্লোর করিনি সামনে করবো। নতুন ডিভিশন ফর্ম হয়েছে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। নতুন অনেক চেঞ্জ আসছে সামনে। আমাদের ডিপোজিটের গ্রোথ গত বছর ছিলো অ্যারাউন্ড ১৫ পারসেন্ট। যখন মার্কেট গ্রোথ ছিল ১২ থেকে ১৩ পারসেন্ট।

প্রশ্ন: আপনাদের চেয়ারম্যান ব্যাংকিং সেক্টরে অনেক স্মার্ট মানুষ হিসেবে পরিচিত। আপনি এবং আপনারা মিলে কতখানি সাকসেস হয়েছেন এবং সেই সাথে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
মাসরুর আরেফিন: চেয়ারম্যান সাহেবের কথা বললেন। তাঁর এবং আমার জুটি এই ব্যাংকটাকে এখনো অনেক কিছু দিয়েছে। অবশ্যই তৎকালীন এমডি মাহমুদ সাত্তার সাহেবের বড় অবদান আছে। আমরাই আমেরিকান এক্সপ্রেস আনি। আমরাই কিন্ত মালয়েশিয়াতে রেমিটেন্স কোম্পানী খুলে আজকে যেখানে ১১ টা ব্র্যাঞ্চ। আমি আর আমার চেয়ারম্যানের কথা বলছি। এই জুটিটার কথা বলছি। একটা পেয়ার লাগে। রোনালদো মেসি ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড। আমরা মিলেই আমেরিকান এক্সপ্রেস আনি। আমরা দুজনে মিলেই একসাথে কাজ চালু করি- এখন আমাদের খুব সুনাম সিটিজেন প্রায়োরিটি ব্যাংকিং সেবা। আপার ক্লাস কাস্টমারদের এটা করি। আমরাই মালয়েশিয়াতে ব্যাংকটাকে নিয়ে যাই। তৎকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন রুবেল আজিজ। তিনিও অত্যন্ত ডাইনামিক মানুষ। এই জুটি মিলে আবার আমরা আফ্রিকায় গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনে কিভাবে আফ্রিকাতে বিপ্লবটা ঘটলো? এরই ফলশ্রুতিতে ওম্যান ব্যাংকিং সিটি আলো খোলা হলো। দেশের ৫০ ভাগই নারী। তাই নারীকে বাদ দিয়ে কিভাবে ব্যাংকিং হবে? সিটি আলো শুধু একটি ব্র্যাঞ্চ খোলা হলো না। ৩১ টি ব্র্যাঞ্চে সিটি আলো কর্নার করা হলো। সেখানে মেয়েদের সব অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হচ্ছে। চারটা সেগমেন্টে নারীদেরকে আমরা ভাগ করে নিলাম প্রডাক্টের সুবিধার্থে। বিজনেসে জড়িত নারী, চাকরিজীবী নারী, গৃহবধূ নারী এবং প্রফেশনাল নারী যেমন, স্কুল শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার। চার সেগমেন্টে নারীদের আমরা সেবা দিলাম। এখন আবার ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস আমরা ওপেন করলাম।

প্রশ্ন: আপনি ব্যাংকের বাইরে একজন লেখক, অনুবাদক ও সাহিত্যিক। কাফকা ও ইলিয়াড অনুবাদ করে আপনি ব্যাপক আলোচিত ছিলেন। এরপরে মেইনস্ট্রিমে আগস্ট আবছায়া লিখে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। আপনার শিল্প সাহিত্য চর্চা নিয়ে জানতে চাই।
মাসরুর আরেফিন: সুন্দর প্রশ্ন। লেখালেখি আমার পার্সোনাল প্যাশনের জায়গা। এই জায়গা কখনোই ছাড়তে পারি না। এই ব্যাংকিংয়ের স্ট্রেচের জন্যে সাহিত্য চর্চা বিরাট একটা পিলের মত উপশমকারী। সারাদিন পরে যখন আমি নিজের লাইব্রেরী রুমে বসি যখন আমি আমার কাজগুলো করি। আমার প্রথম উপন্যাস আগস্ট আবছায়া। প্রচুর বিক্রি হলো। যথেষ্ট নাম সুনাম এবং সমালোচনাও হলো কিছু। আরেকটা কাজ তো হলো? ৭৫ এর পনের আগস্ট নিয়ে আরেকটি উপন্যাস তো হলো। কাফকাও তো অনুবাদ হয়ে গেলে বাংলা সাহিত্যে। গল্প সমগ্র যদিও কিছু কাজ দ্বিতীয় খন্ড এখনো বাকী আছে। হোমারের এতো বড় ট্রয় স্টোরী পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্য ইলিয়াড আমার সাড়ে নয়শত পৃষ্ঠার বই তাও হয়ে গেলো।

আবার এই বছরই গত ঈদ সংখ্যায় আপনারা দেখলেন পার্সের আনাবাজ করলাম। আনাবাজ ১৯৬০ সালের নোবেল পুরস্কার পাওয়া আরেকটি আধুনিক মহাকাব্য সমকালে তার পুরোটা বের হলো। আবার প্রথম আলোতে ঈদুল আযহাতে আরেকটি বের হলো। আগামী বই মেলায় তা বের হবে। আর প্রথম কবিতার বই মিলিয়ে ৬টি বই হয়ে গেলো। ব্যাংকে ভাল কাজ করলে বছর শেষে প্রাপ্তি যোগ হয়। কিন্তু লেখকদের স্বীকৃতি অনেক পরে আসে। জটিল একটা জায়গা। মানুষের ভালবাসা এবং পাঠকের ভালবাসা। লেখক হিসেবে আমার সবেমাত্র শুরু হয়েছে। লেখক হিসেবে দাঁড়াবো আজ থেকে আরও পাঁচ বছর পরে। আরও লিখতে হবে। অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ব্যাংকের জটিল এই কাজের জায়গা থেকে। ৫ হাজার লোকের দায়িত্ব আর ৬০ হাজার কোটি টাকার ব্যালেন্সশীট, এ থেকে বাঁচার পথ আমার জন্যে রাতে বাড়ি ফিরে লেখালেখি করা।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: বিকাশসিটি ব্যাংক
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

বাবা রাহুলের মুখাগ্নি করলো ১৩ বছরের সহজ

মার্চ ৩১, ২০২৬

ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলতে যাদের নিয়ে বাংলাদেশে আসছে নিউজিল্যান্ড

মার্চ ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালে দারুল উলুম মুরারিয়া মাদ্রাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু

মার্চ ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য ইরানে কোনো সেনা পাঠাবে না: কিয়ার স্টারমার

মার্চ ৩০, ২০২৬

২ কোটি রুপি জরিমানা গুনছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

মার্চ ৩০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT