‘‘ঢাকার রেলস্টেশনের এক পথশিশু। নানা স্ট্রাগলময় জীবন যার। তবে তার মধ্যেও আছে শৈশব কৈশোরে থাকা প্রতিটি শিশুর মতো ফ্যান্টাসি প্রবনতা। এরকম ফ্যান্টাসি থেকেই একদিন হঠাৎ সে ট্রেনে উঠে নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করে। হাজির হয় একটি গ্রামে। সেখানে কাজের সন্ধান করে। যথারীতি নানা বাধা, প্রতিবন্ধকার সম্মুখিন হয়। এখানে বলে নেয়া ভালো, শিশুটির সাথে তার মায়ের একটা গভীর সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে চলচ্চিত্রে। কারণ, মা ছাড়া পৃথিবীতে শিশুটির আর কেউ নেই। কিন্তু ঘটনাক্রমে গিয়ে শিশুটি বুঝতে পারে যে, মায়ের জন্য সে আসলে একটা বোঝা!’’
বাবা নির্মলেন্দু গুণের লেখা শিশুতোষ উপন্যাস ‘কালো মেঘের ভেলা’কে চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছেন মেয়ে মৃত্তিকা গুণ। তার নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে এভাবেই গল্পের সারাংশ বলছিলেন নির্মাতা মৃত্তিকা।

তবে নির্মাণে এই প্রথম নয়। এর আগেও নির্মাণের সঙ্গে ছিলেন মৃত্তিকা। চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মাণ করেছেন একাধিক টেলিফিল্ম। এরমধ্যে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ‘ময়না পাখি’ ও ১৫ আগস্টকে উপলক্ষ্য করে নির্মিত ‘কাণ্ডারি’ বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে। তবে হঠাৎ ‘কালো মেঘের ভেলা’ নিয়ে কেনো আলোচনা?
বলছি। গেল মঙ্গলবার থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে শুরু হয়েছে অষ্টম সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৮। সার্কভুক্ত দেশসমূহের চলচ্চিত্রে সাজানো এ উৎসবের আয়োজক সার্ক কালচারাল সেন্টার। কলম্বোর ন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের আয়োজন। আর এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য মিলিয়ে উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে ৫টি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। আর তার মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে দেখানো হবে মৃত্তিকা গুণ পরিচালিত ‘কালো মেঘের ভেলা’ চলচ্চিত্রটি। ২৬ তারিখ সকাল ১০টায় চলচ্চিত্রটি দেখানো হবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন মৃত্তিকা গুণ।

সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রটির বিদেশ যাত্রার আগেই বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো তথ্যমন্ত্রণালয়ের জুরিদের কাছেও। জুরি বোর্ডে ছিলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, সামিয়া জামান এবং শাহনাজ কাকলী। তারা ‘কালো মেঘের ভেলা’ দেখে খুব প্রশংসা করেছিলেন। আর তখনই তথ্যমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিলো, সরকারি ভাবে যতো ফেস্টিভালে আমন্ত্রণ পাবে সবগুলোতেই দেয়া হবে ‘কালো মেঘের ভেলা’। আর তারই অংশ হিসেবে অষ্টম সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি।
সার্কের মতো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শীত হওয়ার খবরে নির্মাতা মৃত্তিকা গুণ বেশ উচ্ছ্বসিত। জানালেন, সার্ক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এশিয়ার সাতটা দেশের মানুষ তাদের সিনেমা নিয়ে এখানে আসবেন। সেখানে আমার চলচ্চিত্রটি দেখানো হবে, এটাতো আমার জন্য বেশ সম্মানজনক। আর এরজন্য সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কেনো না, সরকারি অনুদানেতো প্রচুর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় সেখান থেকে যে আমার চলচ্চিত্রটি তারা সিলেক্ট করে সার্ক ফেস্টিভালে পাঠালেন এতে আমি সম্মানিত। আর আমি আশাবাদী, যারা সিনেমাটি দেখবেন তাদের থেকে প্রতিক্রিয়াও ভালো আসবে। কারণ ছবিটি আমি বেশ যত্ন নিয়ে নির্মাণ করেছি। রিয়েল স্পটে গিয়ে শুট করেছি। গল্পে যে বারহাট্টার একশো বছরের পুরনো জঙ্গলের কথা উল্লেখ আছে সেখানেই গিয়েই শুট করেছি।
স্বল্পদৈর্ঘ্যটি দেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণের শিশুতোষ উপন্যাস ‘কালো মেঘের ভেলা’ থেকে চিত্রনাট্য করেছেন প্রয়াত ফারুক হোসেন। ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে কবির গ্রাম বারহাট্টায়। এছাড়া কমলাপুর, পুবাইল, তেজগাঁও বস্তিতেও শুটিং সম্পন্ন করেছেন মৃত্তিকা গুণ। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মা ও ছেলে। যেখানে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান ও ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পিদিম থিয়েটারের আপন।








