ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে সারাদেশ। তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে পুরো দেশ।
এই ঘটনার পর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
এমন নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে মানব বন্ধনে মহিলা পরিষদ, প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম, সাম্প্রতিক কুড়িগ্রাম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, পুজা উৎযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়।
মানব বন্ধনে বক্তারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহবান জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে সমুচিত শাস্তির দাবি জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় নড়াইলেও। শুক্রবার হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নড়াইল সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে নড়াইল-যশোর সড়কের নড়াইল প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থার করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
নোয়াখালীতে ‘সহিংসতা রুখবো শান্তির দেশ গড়বো’ শ্লোগান নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে কয়েকটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা।
অব্যাহত শিশু নির্যতন এবং সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যা লঘু নির্যাতন ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা শিশু ও নারী নির্যাতন এবং সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে কঠোর হস্তে দমনের আহবান জানান।
গত ২৮ অক্টোবর শুক্রবার উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস (২৭) নামে এক যুবকের ফেসবুকে পোস্টে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।
তবে রসরাজ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ফেসবুক অাইডি নকল করে অন্য কেউ এই কাজ করেছে।
৩০ অক্টোবর রোববার এর প্রতিবাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের দুটি সংগঠন সমাবেশ করে। সেই সমাবেশ চলাকালে সদরের হিন্দুপাড়াগুলোতে হামলা চালালো হয়।
সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা হিন্দু সম্প্রদাযের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে। এ ঘটনার পর প্রায় একশত হিন্দু পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
৩ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫টি হিন্দু বাড়িয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।








