সাভারে জরিপ বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এর উপর চলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়।
গত বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ডিজিটাল জরিপের পর সাভারের ২১৮ টি মৌজায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজ শুরু হয়। সেই কাজের প্রথম ধাপে ১৯ টি মৌজার চূড়ান্ত পর্চা বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৪০ টি মৌজার জরিপের কাজ এখনো চলছে। জরিপের সময় জমি ও বাড়ী সঠিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিতে মালিককে দলিল-দস্তাবেজসহ উপস্থিত হতে হয় মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের কাছে। সেখানেই কাজ করতে এলেই চলে ঘুষের মহোৎসব।
ভুক্তভোগী এক জমির মালিক বলেন, এখানে টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আসলে ‘চিলে যখন ঝাপটা দিবো কিছু না কিছু নিয়ে যাইবো’।
আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, যাদের টাকা আছে তাদের ঘরে গিয়ে রেকর্ড করে।
স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যাবে এমন ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হচ্ছে সেখানে। বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর ও বাগ্নীবাড়ী মৌজায় দরিদ্র এক বিধবার জমি রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বৃদ্ধ কৃষককে জমির পর্চা পেতে গুনতে হয়েছে ২২ হাজার টাকা।
একজন জমির মালিক বলেন, অনেক জোরাজোরি করেছি দেয় না, তাই কি করবো! ওরা বলে সরকারী জমি সরকার লয়ে যাইবো গা। ‘ আমাদের ভয় দেহাইছে তাই ভয়ে ট্যাহা দিয়ে পচ্চা নিচি’
সাভারের সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার আমির হোসেনের কাছে একজন জমির মালিক কাজ করে নাই জানতে চাইলে উত্তপ্ত হয়ে বলেন, এ ধরণের কথাবার্তা বলেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি জরিপ কাজে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল সার্ভে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।







