মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টি নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এছাড়াও এই মামলার অন্য আসামী বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক মোড়লকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্যে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্য অসুস্থ থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়।
এর আগে রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে পুলিশ অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে অতীতের রায়গুলোর সময় ট্রাইব্যুনাল এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও এ মামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ততোটা ব্যাপক ছিল না।
রায় পড়ার আগে আসামী সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন বিশ্বাসকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আসামীর কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম বলেন, দেশবাসী অবশ্যই এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করবে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
আরেক আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আজকের মামলায় ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আজ যে ৮ জনের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলো তারা যে ধরণের অপরাধ করেছে তারাসহ একাত্তরে এমন অপরাধ করা সবাই মানবতার শত্রু।’
গণহত্যা, হত্যা ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ১২ আসামীর মধ্যে ৩ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
তবে বিচার চলার সময় মারা যান আসামী লুৎফর মোড়ল। অপরাধ প্রমাণের জন্য ১৭ সাক্ষী দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে আসামীপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী দেয়নি।
গত ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় অপেক্ষমান তালিকায় রাখেন।
আসামীদের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ:
অভিযোগ ১: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ।
অভিযোগ ২: একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা।
অভিযোগ ৩: কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন।
অভিযোগ ৪: কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন।
অভিযোগ ৫: কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।








