দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে সাংবিধানিক আদালতকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে বলে বিচারিক কর্মজীবন থেকে বিদায় নিলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় মঙ্গলবার তিনি একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের অপর বিচারপতিদের উপস্থিতিতে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘সাংবিধানিক আদালতকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে হবে। সাংবিধানিক আদালতকে মানুষের পাশে আশা হয়ে, ভরসা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এতে প্রান্তিক মানুষ জানবে অন্যায়ের প্রতিকার করার জন্য আইন আছে। আইন প্রয়োগের জন্য আদালত আছে।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য উল্লেখ করে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘সুশাসন এবং আইনের শাসন সমার্থক। সুশাসন তথা আইনের শাসন নিশ্চিত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একই সাথে একথাও অত্যন্ত ঠিক যে, বিচারিক স্বাধীনতা অনেকাংশে নিশ্চিত করে বিচারকের অন্তরের স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পালনের জন্য বিচারককে মন এবং মননে স্বাধীন হতে হবে এবং এই কারনে বিচারককে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।’
বিদায়ী বক্তব্য দেশের খেটে খাওয়া মানুষের প্রসঙ্গ তুলে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিলে খেটে খাওয়া মানুষ বাঁচার পথ করে নিতে পারে।’
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের বিদায়ী সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় আপিল বিভাগের আদালত কক্ষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের স্ত্রী, সন্তান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আব্দুর সবুর চট্টগ্রামের একজন প্রতিথযশা আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মা মমতাজ সবুর ছিলেন লেখিকা হিসেবে সুপরিচিত।বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম জেলা বারে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে পেশা পরিচালনা শুরু করেন। এরপর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২০০৮ সালে শপথ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১০ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করেন।







