সহজে ব্যবসা করা সূচকে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। গতবছর যা ছিল ১৭৭তম। ব্যবসা পরিবেশের ওপর বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট-২০১৯ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে সারা বিশ্বে একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই সূচকে বাংলাদেশ এক ধাপ এগুলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের উন্নতি হয়েছে ২৩ ধাপ। তালিকায় ভারতের অবস্থান ৭৭তম। আর পাকিস্তানের অবস্থান ১৩৬ তম।
প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার আনুষঙ্গিক পরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবসার পরিবেশকে ১০টি বৃহত্তর নির্দেশিকা বা বিষয়ে বিন্যস্ত করে সেগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেমন, ব্যবসা শুরু করা, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণ প্রাপ্তি, কর প্রদান, সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যবসায়িক চুক্তি কার্যকর ও দেউলিয়াত্ব ঠেকানো। এসব বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে তারপর এই সূচক তৈরি করে বিশ্বব্যাংক। ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত উল্লেখিত বিষয়ের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এ বছর বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৪১ দশমকি ৯৭। স্কোর গত বছরের তুলনায় বেড়েছে

শুন্য দশমিক ৯১। ৮৬ দশমকি ৫৯ স্কোর পেয়ে র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করেছে নিউজিল্যান্ড। এরপর আছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয় স্থানে আছে ডেনমার্ক।
তবে ১৯০ দেশের মধ্যে ১৭৬তম অবস্থানে থাকা অর্থাৎ এক ধাপ এগিয়ে আসা সুসংবাদ নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়িরা। তারা বলেন, যেসব খাতের উন্নয়ন নিয়ে এই সূচক তৈরি করা হয় তার প্রত্যেক খাতে এখনও অনেক উন্নতি করতে হবে বাংলাদেশকে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এক বছর এক পেছালাম আবার পরের বছর এক ধাপ এগুলাম- এটা স্বস্তির বিষয় নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স পেতে অনেক সময় লাগে। এখনও সব খাতে এক দরজায় সব সেবা বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। বিশ্বে প্রায় সব খাতে অনলাইনে সেবা চালু হলেও বাংলাদেশে তা এখনও পুরোপুরি হয়নি।
“ধরুন কোনো ব্যবসার নিবন্ধন কিংবা লাইসেন্সের আবেদন করা হলো। কর্তৃপক্ষ সেটার অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু কেন দেয়া হয়নি সে বিষয়ে অনলাইনে বিস্তারিত প্রকাশ করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। উন্নত বিশ্বে এই সিস্টেম চালু রয়েছে।”
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকরণ সহজ করতে হবে। ঋণের সুদ কমানোসহ ঋণ প্রাপ্তিতে সহজ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে হবে। নতুবা উন্নত দেশে পৌঁছার যে লক্ষ্য রয়েছে তা অর্জন সম্ভব হবে না।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খুব বেশি না হলেও এক ধাপ এগুনো সুসংবাদ। সহজে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন খাতে কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে বাংলাদেশের। আরো অনেক দূর যেতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এক ধাপ এগিয়েছে; এটা প্রশংসার দাবিদার। তবে ১৯০ দেশের মধ্যে ১৭৬ তম, এটা খুব বেশি নয়। আরো এগুনোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসার শুরু করার প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা ছিল কিন্তু তা থেকে মোটামুটি উত্তরণ হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এখনও বিদ্যু সরবরাহ অপ্রতুল। এছাড়া ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়নে সমস্যা ছিল। সেটির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
এ বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০টি দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯তম। ভবন নির্মাণের অনুমতি ও ব্যবসা শুরুর অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৮তম। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম। জমির নিবন্ধনে ১৮৩তম স্থানে বাংলাদেশ। ঋণপ্রাপ্তিতে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬১তম। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৯তম। কর প্রদানে বাংলাদেশ ১৫১ তম। বৈদেশিক বাণিজ্যে ১৭৬ তম। চুক্তির বাস্তবায়নে ১৮৯ তম ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৫৩ তম।








