মিয়ানমারে সরকারের মদদে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি অধিকার গ্রুপ। মুসলিমদের নির্যাতনে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী সাধারণ লোকজনও যোগ দিয়েছে বলে ‘দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক’ নিজেদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, সরকার যেভাবে শাসন করছে তা বিদ্বেষকে জনপ্রিয় করে তুলছে এবং বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে মুসলিমরা ভিন্নগ্রহের প্রাণী- এই ধারণা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া রাখাইনে সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলেও ওই অধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে ৮ মাস ধরে ৪৬ টি শহর এবং গ্রামে নেয়া ৩৫০ টি সাক্ষাতকারের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ব্যাপক নির্যাতন চিত্রের পাশাপাশি ২০১২ এবং ২০১৩ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিভিন্ন রাজ্যের অন্যান্য মুসলিমদের সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
অনেক রাজ্যে মুসলিমদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ২১টি গ্রামকে ‘নো মুসলিম জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে মিয়ানমার সরকার এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদন বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু সরকার সবসময় বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, রাখাইন রাজ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ প্রচারণা চালাচ্ছে।








