স্বাধীন বাংলদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘ওরা ১১ জন’–এর শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আগেই জানানো হয়, আজকের অনুষ্ঠানে ছবির অভিনয়শিল্পী খসরু, সৈয়দ হাসান ইমাম, মিরানা জামান, রাজ্জাক, সংলাপ লেখক ও অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, নূতন, কাজী ফিরোজ রশীদ, ছবির পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, প্রযোজক সোহেল রানা, চিত্রনাট্যকার কাজী আজিজ, পরিবেশক ইফখারুল আলম, প্রধান সহকারি পরিচালক শামসুল আলমকে সম্মাননা দেওয়া হবে। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে আসেননি রাজ্জাক, শাবানা, খসরু ও এটিএম শামসুজ্জামান।
এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, চিত্রনায়িকা শাবানা দীর্ঘদিন পর দেশে এসেছেন। এই অনুষ্ঠানে তার থাকার সম্ভাবনা আছে। তাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। না, শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। জানা গেছে, নানা ভাবে চেষ্টা করেও শাবানার সঙ্গে তারা যোগাযোগই করতে পারেননি। আর রাজ্জাক, খসরু ও এটিএম শামসুজ্জামান কেন আসেননি, তা নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই নানা কথা শোনা যায়। অনুষ্ঠানে পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে শুধু রাজ্জাকের ব্যাপারে বলা হয়, তিনি অসুস্থ, তাই আসতে পারবেন না।
সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেককে ক্রেস্ট আর উত্তরীয় দেওয়া হয়।
পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জেমীর উপস্থাপনায় দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি ছিলেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও নৃত্য পরিচালক সমিতির সভাপতি মাসুম বাবুল।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছবির কলাকুশলীদের আমার হাতে সম্মাননা দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। যে সময়ের ছবি, সেই সময়ের সাক্ষী আমি নিজেও। স্বাধীনতা পরবর্তী অগোছালো সময়ে এই ছবি নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।’
ছবির প্রযোজক সোহেল রানা বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই এ ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে ছবির সঙ্গে যুক্ত সবার একান্ত সহযোগিতায় কাজটি করা সম্ভব হয়েছে।’
সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘যুদ্ধের পরপর বাণিজ্যিক ছবি না বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানালেন চাষী নজরুল ইসলাম। এ ছবির একজন আমি এখন ইতিহাসের সাক্ষী।’
মরহুম চাষী নজরুল ইসলামের পক্ষে তার স্ত্রী জোৎস্না কাজী সম্মাননা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের পর হঠাৎ একদল ছেলেমেয়ে বাসায় এসে ছবি বানানোর যজ্ঞ শুরু করে। শেষে ছবিটি যা দাঁড়ালো, তা দেখে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আমি তখন চাষীকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।’
এ ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আপনাদের দেখানো পথে আমরা চলতে চাই।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুশফিকুর রহমান গুলজার। তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান মার্চ মাসে আয়োজন করার কথা ছিল। নানা কারণে তখন সম্ভব হয়নি। দেরিতে হলেও অনুষ্ঠানটি করতে পেরে ভালো লাগছে।’









