বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বার্থান্বেষী মহলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেক তরুণ নিজের অজান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উস্কানি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তরুণদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
বিভেদ, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং অপতথ্যের প্রভাব কমিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তি এবং সহনশীলতা নিশ্চিতে ‘আর্টিকেল নাইনটিন’ আয়োজিত সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।
আর্টিকেল নাইনটিন’র উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে (১৯ জানুয়ারি ২০২২) কমিউনিটি রেডিও পদ্মা ৯৯.২ এফএম-এ একটি লাইভ (Live) আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। আলোচনায় তরুণদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে সর্তকতা অবলম্বনের আহ্বান জানান বক্তারা। অনলাইনে অপতথ্য, ফেক নিউজ ও গুজব চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধের সক্ষমতাও তরুণদের অর্জন করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে রেডিও পদ্মার স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের উত্তরবঙ্গ প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসিবুর রহমান বিলু এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট সাবরীনা মমতাজ ও প্রোগ্রাম অফিসার আনোয়ার রোজেন। ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: তরুণ সমাজের ভূমিকা’ শিরোনামে প্রচারিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেডিও পদ্মার মেহজাবিন কথা।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসিবুর রহমান বিলু বলেন: ধর্মকে সামনে রেখে খুব সহজেই অরাজকতা সৃষ্টি করা যায়। তাই ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর যে কোন কিছুতে লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট করার আগে আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন: সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় ফেসবুকেরও দায় আছে। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বও ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যেরও শিকার হয় বলে মনে করেন সাবিত্রী হেমব্রম। তরুণ এই সমাজকর্মী অনুষ্ঠানে বলেন: বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য স্বীকার করা হলেও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। প্রান্তিকতা, নিজস্ব ভাষা ও দৈহিক গড়নসহ নানা কারনে আদিবাসীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। সামাজিক এই বৈষম্য প্রতিরোধে সব ধর্মের ও গোষ্ঠীর তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচকদের পাশাপাশি ফেসবুক ও ফোনের মাধ্যমে শ্রোতারাও যুক্ত হন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি রেডিও পদ্মার ফেসবুক পেজ থেকেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।








