বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সুড়ঙ্গ ঘাঁটিতে জিবিইউ-৪৩ নামের শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করলেও অনেক বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছেন।
ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে এটি অনেক বড় ও শক্তিশালী হওয়ায় এই বোমাকে ‘সব বোমার মা বোমা’ বলা হচ্ছে। তবে ২০০৭ সালে রাশিয়া তার শক্তি বৃদ্ধিতে ‘ফাদার অফ অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার বাবা’র পরীক্ষা চালিয়েছিলো। এই বোমা ‘সব বোমার মা বোমা’ থেকে চারগুণ শক্তিশালী।
এনিডিটিভি সূত্রে এই ‘সব বোমার মা বোমা’ সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর কাছে ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্ল্যাস্ট (মোয়াব) নামে পরিচিত। এই সংক্ষিপ্ত নামের কারনে একে ‘মাদার অফ অল বোমস’ বা ‘সব বোমার মা বোমা’ বলা হয়।
২. পেন্টাগনের তথ্যমতে, এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অপারমানবিক বোমা এবং এ ধরনের বোমার ব্যবহার পৃথিবীতে এটাই প্রথম।
৩. ৯ হাজার ৭৯৭ কেজি ওজনের বোমাটি জিপিএস দ্বারা পরিচালিত যুদ্ধোপকরণ। বিস্ফোরণের আগে এটি মাটির নিচে ২শ ফুট গর্ত এবং ৬০ ফুট জমাটবদ্ধ আকার ধারণ করে।
৪. ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমনের সময় প্রথম এই বোমার পরীক্ষা চালানো হয়।
৫. পরীক্ষার সময় আকাশে মাশরুমের মতো মেঘের সৃষ্টি হয়, যা ২০ মাইল দূর থেকে দেখা যায়। মার্কিন বিমান বাহিনী এই তথ্য জানায়।
৬. জিবিইউ-৪৩ বোমাটি আফাগানিস্তানে গুহা এবং বাঙ্কার তৈরি করে হামলা চালানো আইএস যোদ্ধাদের নির্মূলে ব্যবহার করা হয়।
৭. স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭.৩২ মিনিটে লকহেড ট্রান্সপোর্ট বিমান থেকে এই বোমা হামলা চালানো হয়।
৮. বোমাটি তৈরির সময় বলা হয়েছিল, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমানবিক বোমা।
৯. আইএস যোদ্ধাদের ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ড এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সময়ই আফগানিস্তানে আফগান-মার্কিন সৈন্যদের ঝুঁকি কমাতে এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে উর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
১০. তবে জিবিইউ-৪৩ বোমাটিই এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে বড় নয়। ২০০৭ সালে রাশিয়া তার শক্তি বৃদ্ধিতে এভিয়েশন টারমোবারিক বোমার পরীক্ষা চালায়, যার নাম ডাক নাম ছিল ‘ফাদার অফ অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার বাবা’। এই বোমা ‘সব বোমার মা বোমা’ থেকে চারগুণ শক্তিশালী।








