বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। প্রিয় অভিনেত্রীর মাত্র ৫৪তে চলে যাওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না তার অগণিত ভক্তরা। প্রথমত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের পর জানা যায় বাথটবে জলে ডুবে মারা গেছেন শ্রীদেবী।
সম্প্রতি এর সাথে যুক্ত হয়েছে এক নতুন আলোচনার। শ্রীদেবীর মৃত্যুর বিষয়টি ভারতসহ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরতে বাথটাবে বসে এক সাংবাদিক কোথায় বা কীভাবে তাদের দেবীতুল্য প্রিয় অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন।
কেউ কেউ বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখলেও, ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠী যারা টয়লেটের সুবিধা পায়না সেসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের প্রিয় অভিনেত্রীর মৃত্যু যে স্থানে হয়েছে সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মুবাশ্বার হাসান সিজার।
সেখানে তিনি লিখেছেন,
অনেকে শ্রীদেবীর মৃত্যুর পরে ভারতের কোনো এক টিভি সাংবাদিকের বাথটাবে বসে শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঘটনার ডেমোন্সট্রেশনকে সাংবাদিকতার মৃত্যু বলছেন। তাদের এই মন্তব্য মৌলিক না. ভারতের কোনো এক ওয়েবসাইট ওই টিভি সংবাদকে কটাক্ষ করে সংবাদ প্রকাশ করার পরেই এই ব্যাপারে কথা উঠেছে। আমার তিনটা মন্তব্য আছে এই ব্যাপারে।
প্রথমেই আসি বাথটাবে বসে রিপোর্টারের সংবাদ ডেমোন্সট্রেশনকে আমি মনে করি এটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে ভারতের প্রেক্ষাপটে। কারণ ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠী “বাথটাব” জিনিসটা কি সেটাই জানেনা। ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে দারিদ্রতা, টয়লেট এর একসেস না থাকার ব্যাপারটা আমরা কম বেশি জানি। অথচ এই হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে শ্রীদেবী দেবীর মতোই। তারা দলবেঁধে হাট বা বাজারের মতো কোনো জায়গায় টিভি দেখে। তাই তাদের দেবী কিভাবে মারা গেলেন সেটা বোঝানোর জন্য যদি কোনো টিভি রিপোর্টার বাথটাব কি ওখানে বসে ডেমোন্সট্রেট করে আমার মনে হয় না যে এটা খুব বেশি অপ্রাসঙ্গিক।
দ্বিতীয়ত, বাথটাব জিনিসটা যে দুনিয়ার সবাই জেনে থাকবে এই ধরণের ধারণা শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে আসা মানুষদের ধারণা হতে পারে। আপনার বাসার কাজের বুয়া বা ড্রাইভার যে কিনা সাকিব খান বা অপু বিশ্বাসের ভক্ত তাকে জিজ্ঞেস করে দেখেন না, দেখবেন যে বেশিরভাগই বলতে পারছে না বাথটাব কী? তাই সাংবাদিক হিসেবে আপনার অডিয়েন্স বা দর্শকের চাহিদা মোতাবেক সংবাদ তৈরী করাতে দোষের কিছু নাই। হয়তোবা আপনার রুচি বা ক্লাসের সাথে যাচ্ছেনা কিন্তু আপনার রুচি আর ক্লাসের বাইরেও সমাজ আছে এটা বোঝাটা জরুরি। আপনি ও আপনার বাথটাবকে ঘিরে পৃথিবী আবর্তিত হয় না বরং আপনি ও আপনার বাথটাব পৃথিবী ও সমাজের অংশ মাত্র। আর সাংবাদিকের কাজ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়া।
তৃতীয়ত, কিছু সাংবাদিক (সবাই না ) যারা নিজেরা “সাংবাদিকতা” করেন অনেক পাবলিক ইন্টারেস্ট এর সংবাদ চেপে রেখে ক্ষমতাধরদের সাথে আঁতাত করে, কোনোক্রমে ক্ষমতাশালীদের ( শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতাধর বলছিনা) একটি সেলফিতে জায়গা পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন, বা অনেক সময় তাদের কার্যকলাপে বোঝার উপায় নেই উনি কি সাংবাদিক নাকি রাজনৈতিক কর্মী তারাও যখন লিখেন এই ব্যাপারে RIP Journalism তখন ভাবি তারা কত ভালো আছেন, সুখে আছেন। জাতি আশায় আছে কোনো একদিন তারা নিজেদের সাংবাদিকতাকে বাথটাব থেকে বের করে আনবেন জনগণের কাতারে নামবেন। নিজের বাথটাব বা নিজের ইন্টারেস্ট না জনগণের ইন্টারেস্টকে দেখবেন, বোঝার চেষ্টা করবেন ও সংবাদ পরিবেশন করবেন, চেপে রাখবেননা।









