চ্যানেল আই অনলাইন
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • স্বাস্থ্য
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

শেখ হাসিনাকে সাহস দিন

কবির য়াহমদকবির য়াহমদ
৩:২৫ অপরাহ্ন ০৪, অক্টোবর ২০১৯
মতামত
A A

কে ভেবেছিল আগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আর্থিক দুর্নীতি আর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে পদ হারাবেন? কে ভেবেছিল আগে রাজধানী ঢাকায় প্রশাসনের জ্ঞাত-অজ্ঞাতে এতগুলো ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি? কেউ কী ভেবেছিল এতদিন যুবলীগের নেতা পরিচয়ে রাজধানীতে রাজত্ব করে আসা দুর্নীতিবাজ নেতাদের রাজত্ব হারানোর শঙ্কা জাগবে? কে ভেবেছিল এতদিন শক্তিমান ওইসব নেতারা একে একে গ্রেপ্তার হবেন, বা গ্রেপ্তারের শঙ্কায় থাকবেন? কেউ ভাবে নি। এই না ভাবাটা ভাবনার সীমাবদ্ধতা নয়, এটা ছিল আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা।

এই ধারাবাহিকতায় এবার ছেদ পড়ার ইঙ্গিত এসেছে। কঠিন এই কাজে হাত দিয়েছেন একজন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্রোতের বিপরীতে একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও জানেন এই লড়াই বিপদসঙ্কুল পথের। এখনও তিনি অনড় লক্ষ্যে। তিনি জিততে চান, জিতে গিয়ে দেশকে জেতাতে চান। তার এই জয় দেখতে উদগ্রীব দেশবাসী, নীরবে। এখানে আওয়াজ নেই, তবে আছে অপেক্ষা। এই অপেক্ষা শেষে যে মধুর ফল তা ভোগ করতে চায় দেশবাসী।

শেখ হাসিনা একা লড়ছেন- এখন পর্যন্ত এটাই প্রতিষ্ঠিত সত্য। ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর আর্থিক দুর্নীতি দিয়ে শেখ হাসিনার হার্ডলাইনে যাওয়ার সময়ে দলের অনেকেই তাদের জন্যে তদবিরে নেমেছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাব তাদের সেই তদবিরকে মাঝপথে আটকে দিয়েছিল। কারণ তারাসহ সকলেই জানে শেখ হাসিনা ভেবেচিন্তে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সেটা পূরণে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এটা শেখ হাসিনার চারিত্রিক শক্তিমত্তার লক্ষণ যেখানে ভয়ে পিছপা হওয়ার মত নজির তার খুব একটা নেই, বলতে গেলে নেইই!

শোভন-রাব্বানীকে বিদায়ের সময়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার যুবলীগ নেতাদের ক’জন সম্পর্কে যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সময়ে দেখা গেল এরা সকলের সাধারণ ভাবনাচিন্তার ঊর্ধ্বে। কেউ ভাবেনি ঢাকা শহরে সামনে ক্লাবের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ভেতরে চলছে রমরমা ক্যাসিনো বাণিজ্য। ফকিরেরপুল ইয়ংম্যান্স ক্লাব দিয়ে যে অভিযান শুরু হলো সেখানে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ আরও অনেকের সম্পৃক্ততা। এরপর যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীমের গ্রেপ্তারের সময়ে জানা গেল তার দেহরক্ষীদের কথা, বিপুল অর্থবৈভবের কথা, ঠিকাদারি বাণিজ্যের কথাও। এসব ছিল মানুষের ধারণার বাইরে। এই অভিযান, বলতে গেলে শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত কত অজানাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াসহ যুবলীগ নেতাদের ওপর র‍্যাবের অভিযান শুরুর প্রথম প্রহরেই এই অভিযানের বিরুদ্ধাচারণ করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এভাবে অভিযান চলতে থাকলে তিনি ‘বসে থাকবেন না’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। ত্রিশ বছর ধরে কেন অভিযান না হয়ে কেন এখন হচ্ছে এমন প্রশ্ন করে এই অভিযানকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলেও আখ্যা দেন। তার প্রাথমিক এই প্রতিক্রিয়া দুর্নীতিবাজ নেতাদের বাঁচাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার অংশ ছিল বলে সমালোচনার মুখে পড়ে।

তিনিও জানতেন এই অভিযান মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই হচ্ছে, তবু তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যদিও তার এই অবস্থানের বদল হতে একদিনের বেশি সময় লাগেনি। ওমর ফারুক চৌধুরী শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন এখানে বেশি কথা বলতে গেলে তিনি নিজেও আটকা পড়ে যেতে পারেন। এবং শেষ পর্যন্ত হয়ত সে পথেই এগুচ্ছে তার পরিণতি।

Reneta

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পরের দিনই তিনি অভিযানের পক্ষ বলতে শুরু করলেও শেষমেশ তিনি নিজেও পড়ে গেছেন নজরদারিতে। এবং সর্বশেষ ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়েও প্রতিবেদন হয়েছে। ৩ অক্টোবর দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেল একটা সময়ে তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টির যুবসংহতির রাজনীতিও করেছেন। সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ‘টেন্ডু পাতা’ ব্যবসাও করেছেন। বিড়ি শ্রমিক লীগ নামের আজব এক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। এরপর নানা পথ বেয়ে হয়ে গেছেন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতিও।

ওমর ফারুক চৌধুরী দেশের সবচেয়ে বড় যুব সংগঠনের ‘বর্ষীয়ান’ সভাপতি। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তার জন্মসাল অনুযায়ী তিনি ৭১ বছরের ‘যুবক’। একাত্তর বছর বয়েসি কেউ কোন যুবসংগঠনের নেতৃত্বে থাকে- এটা বিচিত্র এক সংবাদ, অভূতপূর্ব ঘটনা। তবু এটা বাস্তবতা। অথচ দেশের যুব আইন অনুযায়ী ৩৫ বছর বয়েসি মানুষজনই কেবল যুবক হিসেবে গণ্য হতে পারেন। ওমর ফারুক চৌধুরী শেখ হাসিনার একক নির্দেশনায় পরিচালিত দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের বিরোধিতা করলেও এখন তিনি আর আগের অবস্থানে নাই। অন্য সকলের মত তিনিও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন, বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কেবল তিনিই নন, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এই অভিযানের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার সুযোগ নাই।

প্রকাশ্যে কেউ এনিয়ে বিরুদ্ধ-মত না জানালেও সকলেই যে এই অভিযানে খুশি তা বলা যাবে না। ঢাকার যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য বের হওয়ার পর পরই যুবলীগ চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া শেষে দেশবাসীর সন্দেহ ওখানে দলীয় নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি। ওমর ফারুক চৌধুরীর এক বক্তব্য সারাদেশের মানুষদের মাঝে আওয়ামী লীগ নেতাদের, মন্ত্রীদের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই সন্দেহ থেকে দেশবাসীর শঙ্কা- কতদিন চলে এই অভিযান?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা কিংবা শঙ্কা কাজ করলেও সারাদেশের সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক এই অভিযানে খুশি। তারা দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী এই অভিযানের সাফল্য কামনা করে। তবে এই কামনার পাশাপাশি তাদের মাঝে শঙ্কাও আছে, এবং সেটা অভিযানকে কৌশলে ব্যর্থ করে দেওয়ার শঙ্কা। কারণ অভিযান শুরুর পর থেকে আটককৃতদের জবানি ও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ক্যাসিনো ব্যবসার মাসোয়ারা পাওয়াদের তালিকায় রয়েছেন সরকার ও সরকারবিরোধী অনেক শীর্ষ নেতা, প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংবাদিক। বিভিন্ন মাধ্যমে এই তালিকার কথা বলা হলেও তালিকাটা কেউই অদ্যাবধি প্রকাশ করেনি ঠিক, তবে সমাজের একটা শ্রেণির মানুষের মাঝে যে এর বিশাল প্রভাব পড়ে গেছে এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন। ওই সময় অনুমিতভাবে অভিযানের গতি স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী এই অভিযানের মোড় ঘোরাতে রাজধানীর কয়েকটি স্পাতেও অভিযান চালায় শৃঙ্ক্ষলাবাহিনী। তাদের এই অতিউৎসাহী ভূমিকা পুরো অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যেই যথেষ্ট। এই সময়ে ঢাকার আলোচিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ যুবলীগ নেতা সম্রাটকে ধরতে যায়নি, বা ধরা হয়নি। অথচ এই অভিযান শুরুর সময় থেকে সম্রাটই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। আর যুবলীগ চেয়ারম্যানের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াটাও ছিল সম্রাটকে রক্ষা করতেই।

দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ বেরিয়ে আসার পর থেকে দলটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। আওয়ামী যুবলীগ করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়া এইসব নেতারা আওয়ামী লীগের জন্যেই রীতিমত কর্কট রোগ হয়ে ওঠেছে। তবে এই সমালোচনার সময়ে আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির নেতা ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শামীম হোক, খালেদ হোক আর লোকমান হোক তাদের আগের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বিএনপি আর ফ্রিডম পার্টি যাই থাকুক না কেন এই তাদের ফুলে ফেঁপে কলা গাছ হয়ে ওঠা মূলত আওয়ামী লীগের সিঁড়ি বেয়েই। এটা তারা স্বীকার না করলেও সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

শেখ হাসিনার এই অভিযানে যারা আটকা পড়ছেন তাদেরকে পুনর্বাসন করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগই। আওয়ামী লীগের আমলেই তারা টাকার কুমির হয়েছেন। মোহামেডানের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার কথাই ধরা যাক, বিএনপির এই নেতাকে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মাধ্যমে বিসিবিতে নিয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দলীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন। অথচ এই লোকমান কোনোকালেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এই লোকমান হোসেন ভুঁইয়া খালেদা জিয়ার কাছের লোক ছিলেন, তবু তিনি পাপনের আত্মস্বীকৃত ‘বন্ধু’ হিসেবে বিসিবিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। এরপর বিসিবি সভাপতি পাপনের মত তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এই লোকমান বিসিবির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অধিকাংশ কমিটির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বিসিবিতে অন্তর্ভুক্তি, বিসিবির হয়ে আর্থিক বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন মূলত বিসিবি সভাপতি আওয়ামী লীগের সাংসদের বন্ধুত্বের প্রতিদানই। এই লোকমান র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন এবং স্বীকারোক্তিতে বলেছেন বিদেশে একচল্লিশ কোটি টাকা পাচারের কথাও।

এই আর্থিক অপরাধই শেষ নয়, খালেদা জিয়ার মাথাকে রোদ থেকে রক্ষা করতে ছাতা ধরা লোকটি এখন বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার পেছনে বসা অবস্থায় কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে বিভিন্ন সময়ে স্টেডিয়ামে গেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে এই সাবেক বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কত কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর! এটা নাজমুল হাসান পাপনের সৌজন্যে। এভাবে কতশত লোকমান যে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়ায়, পাশে বসে ক’জনকেই বা আমরা দেখি; ক’জনেরই বা পরিচয় আমরা জানি? ক’জনেরই বা পরিচয় প্রকাশ পায়? বারবার প্রাণনাশের আক্রমণের মুখে পড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা যেখানে নিশ্ছিদ্র থাকার কথা ছিল সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগসাজশে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য শক্রপক্ষ তার কাছাকাছি থাকাটা যে তার নিরাপত্তার জন্যে হুমকি সেটা বলতে পেশাদার নিরাপত্তা বিশ্লেষক হতে হয় না।

ক্যাসিনো-জুয়া ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শেখ হাসিনার নির্দেশে শুরু হওয়ার পর এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ১/১১-র শঙ্কাটা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার কথা। শেখ হাসিনা নিজেও জানেন এই ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, এই দুর্নীতিবাজ নেতারা আদতে তার এবং দেশের নিরাপত্তার জন্যে হুমকি। তিনি তাদেরকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চান। এই যুদ্ধ শুরুর পর দেশবাসী তার সঙ্গে থাকলেও মনে হচ্ছে ক্রমশ তিনি একা হয়ে যাচ্ছেন। এই একা হয়ে যাওয়া মূলত যারা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার কথা তাকে তারা সেভাবে হয়ত সহযোগিতা করছেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার এই অভিযানে সমর্থন আছে দেশের মানুষের। কিন্তু দেশের মানুষের এই সমর্থনের প্রকাশ এখনও হয়নি। বরাবরের মত বিএনপি এই অভিযান থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ধান্দায় আছে। তাদের রাজনীতি মূলত অভিযানে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের গ্রেপ্তারে এবং জড়িত থাকার প্রমাণের পর তারা বলছে এইসব অপরাধ আওয়ামী লীগ একা করছে। এখান থেকে সামান্য হলেও ফায়দা হাসিলে মরিয়া তারা। আওয়ামী লীগ আবার এদের সঙ্গে আগে বিএনপির যোগ ছিল সে প্রমাণেও ব্যস্ত। এটা হচ্ছে বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমেই। এর বাইরে সারাদেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকেরা এই অভিযান নিয়ে খুশি হলেও তারা এর প্রকাশ ঘটাতে পারছে না। এর কারণ গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ প্রশাসন ও নেতানির্ভর দল হয়ে পড়েছে। নেতারা এনিয়ে কোন কর্মসূচি দিচ্ছে না বলে শেখ হাসিনাও দেখছেন না কতখানি সমর্থন আছে সাধারণ নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগের কোনও কর্মসূচি না থাকার কারণে সাধারণ নাগরিকেরও এনিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগও পাচ্ছে না। এতে করে শেখ হাসিনার কাছে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যে বার্তা দিচ্ছেন সেটাই হয়ে যাচ্ছে প্রকৃত বার্তা, অথচ তাদের দেওয়া ওই বার্তার মধ্যে কতখানি সত্য আর কতখানি মিথ্যা সেটা যাচাইয়েরও সুযোগ থাকছে কম।

ক্যাসিনো-গডফাদারক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযান শেখ হাসিনা সাহস করে শুরু করেছেন। এই অভিযান দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে অভিনন্দিত হচ্ছে। এখন এই অভিযান চলমান রাখা জরুরি। এই অভিযানে সফল হওয়া জরুরি। এটা চালিয়ে যেতে শেখ হাসিনাকে দেশবাসীর সাহস দেওয়া দরকার। এই অভিযান সফল করতে প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সাহস দিচ্ছি; এই অভিযানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবেন সে বিশ্বাসও করছি।

এগিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী, আমরা দেশবাসী এই ইস্যুতে আপনার সঙ্গে আছি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাফ্রিডম পার্টিবিএনপিবিসিবিযুবলীগ নেতা
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার তেল কিনতে স্বাধীন: রাশিয়া

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বিএনপির শেষ নির্বাচনী সমাবেশ ৮ ফেব্রুয়ারি: রুহুল কবির রিজভী

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

”ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলার বিষয়ে প্রচারণা নেই”

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬

গার্দিওলা চলে গেলে কোম্পানিকেই চায় সিটি

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT