গত বছরের মতো অতটা অগোছালো না হলেও প্রথমদিনে মেলা সেভাবে জমে ওঠেনি। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮। দুপুরে মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মেলার দরজা খুলে দেওয়া হয়।
অনেক স্টল পর্দা দিয়ে ঢাকা। দুই একটি স্টল কাঠের উপর করাত চালিয়ে কিংবা হাতুড়ি দিয়ে পেরেক ঠুকে প্রস্তুত হচ্ছে।
প্রস্তুত হয়নি আর্চওয়েসহ নিরাপত্তা গেট। মেলায় প্রবেশের সময় রামকৃষ্ণ গেট দিয়ে সবাই প্রবেশ করে। যেটা মূলত বের হওয়ার গেট। সন্ধ্যার পুলিশকে দেখা যায় প্রবেশের গেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে আপত্তি জানান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা।
মেলা আগতদের জন্য টয়লেটও প্রস্তুত হয়নি। ফলে প্রথমদিনে মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়। টয়লেটের সামনে দায়িত্বরত আনসার জানান, এখনো প্রস্তুত হয়নি। তবে দু একদিনের মধ্যেই টয়লেট প্রস্তুত হয়ে যাবে। টয়লেট করতে অনেকে রামকৃষ্ণ মন্দিরে ভিড় জমান।

বেশিরভাগ স্টলেই সাজানো হয়েছে পুরনো বই। নতুন কোনো বই এখনো আসেনি। একটি স্টলের বিক্রয় কর্মী জানালেন, শনি রোববারের দিকে নতুন বই আসতে শুরু করবে।
সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম জানালেন, মেলার প্রথম দিকে একটু অগোছালো আর ক্রেতা কমই থাকে। শুক্র শনিবারে পাঠক আসতে শুরু করবে। আসবে নতুন বইও। তখন মেলা জমতে শুরু করবে।
তবে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রথম দিনে পাঁচটি বই মেলায় এসেছে বলে তিনি জানান।
রিজভী আহমেদ জিবরান এসেছেন বাংলা বাজার থেকে। তার হাতে দুইটা নতুন বই। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, একজন বইপ্রেমী হিসেবে মেলার প্রথম দিন না আসতে পারলে খারাপ লাগে। তাই বাংলাবাজার থেকে চলে এসেছি। বেশিরভাগ পছন্দের বই মেলায় আসেনি। নতুন বই আসতে শুরু করলেই মেলা জমে উঠবে।

এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি ইউনিট; মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমি-সহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাঁদের বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।








