করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে সারাবিশ্ব নতুন করে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, হোম অফিস শুরুসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার পায়তারা চলছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও গতবছরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে ওমিক্রন। আক্রান্তের হার এক নয়তো দুই শতাংশের মধ্যে থেকেও শনাক্ত প্রতিদিনই কিছু কিছু বাড়ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তির হার ও মৃত্যু নেই বললেই চলে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই সাবধান করেছেন, বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সাবধান করার পাশাপাশি দেশবাসীকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। সেই শীত ইতিমধ্যে সারাদেশে বাড়তে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘন্টায় দেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর সারাদেশে মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সার্বিক পরিস্থিতি শীতের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিচ্ছে।
ওমিক্রনের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা গত কয়েকমাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। নতুন করে সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে ভ্যাকসিন কর্মসূচির পাশাপাশি। আমাদের দেশেও সেই ধারা বজায় রাখা উচিত।
দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ৬৬২তম দিনে ১ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬৩ জন। আর শনাক্তের হার দুই দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৯৫ জন। করোনার পরিসংখ্যান দেখে পরিস্থিতি সর্ম্পকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। আর আশার কথা হচ্ছে, বহু মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়েছেন। আর ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন দেশের কর্মজীবী মানুষের বিরাট অংশ। শিক্ষার্থীরাও আসতে শুরু করেছে ভ্যাকসিন সুরক্ষায়। শুরু হয়েছে বুস্টার ডোজের কার্যক্রম।
শীতকালে সাধারণত মানুষের সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা দেয়। করোনার উপসর্গের সঙ্গে ওইসব মৌসুমী রোগ মানুষের উৎকণ্ঠা তৈরি করে। শীতের মৌসুমি অসুখ ও ডেঙ্গুজ্বরেও পড়ছেন অনেকে। গতবছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শীতের শুরুতে অনেকে করোনা আক্রান্ত হবার পাশাপাশি শীতের কারণে তাদের কষ্ট ও মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। ওমিক্রনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সবাইকে বিশেষ প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করার পাশাপাশি করোনার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত নিজের ভালোর জন্য।








