খিচুনি রোগ কী?
মস্তিস্ক-কোষ বা নিউরনের তড়িৎ বেগের (Electric discharge) অস্বাভাবিকতার কারণে যে কোন ধরনের ক্ষণস্থায়ী শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা বাহ্যিক লক্ষণকে খিচুনি বলা হয়। যদি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুই বা ততোধিকবার খিচুনি হয় তাহলে এটিকে মৃগীরোগ (Epilepsy) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মৃগীরোগ স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী জটিল রোগ। যে কোনো বয়সের পুরুষ ও নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বাচ্চাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কী কী ধরণের খিচুনি রোগ হয়ঃ
- সাড়া শরীরে খিচুনি- জেনারেলাইজড এপিলেপ্সি।
- শরীরের কোন দিকের খিচুনি- ফোকাল এপিলেপ্সি।
- শরীরের এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে যাওয়া খিচুনি, তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সিনড্রোম আকারে খিচুনি রোগ আসতে পারে।
শিশুদের খিচুনি রোগ কেন হয়:
১) পরিবারে এরকম ইতিহাস থাকলে।
২) গর্ভকালীন জটিলতা-
- জন্মের সময় অতিমাত্রায় ওজন সল্পতা।
- জন্মের পরই শ্বাসনালীতে কষ্ট।
- গর্ভকালীন সময়ে মাথার আঘাতজনিত কারণে।
- জন্মের পরই জন্ডিসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া।
৩) ছোটবেলায় কোন কারণে মস্তিস্কে ইনফেকশনের কারণে পরবর্তীতে খিচুনি হতে পারে।
৪) এছাড়া অনেক অজানা কারণেও খিচুনি রোগ হতে পারে।
খিচুনি রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা:
বাজারে অনেক ধরনের খিচুনি রোগের ওষুধ রয়েছে যেমন- ফেনোবারবিটল, ফেনিটয়েন, ভ্যালপ্রোয়েট ইত্যাদি ওষুধসমূহ প্রায় সব ধরনের খিচুনি রোগের জন্যই কার্যকরী। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বর্তমানে নতুন ধরনের খিচুনিরোধক যে ওষুধ বাজারে এসেছে সেগুলো অধিকতর কার্যকরী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। এসব ওষুধ অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।
খিচুনি রোগীর জন্য সার্বিক উপদেশ:
- রোগীকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে ঔষধ খাওয়ানো।
- জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি খিচুনিকে বাড়িয়ে দিতে পারে তাই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা করানো।
- আগুন এবং পানি থেকে এ ধরনের শিশুদের দূরে রাখা।
- পুকুরে ডুব দিয়ে গোসল করতে না দেয়া, বাসায় বাথরুমে গোসল করলে দরজা লক না করা (ছিটকিনি বন্ধ না করা)।
- মনে রাখতে হবে এই রোগের ঔষধ কমপক্ষে ২-৩ বছর খিচুনি বন্ধ থাকলে (Seizure free) তবেই বন্ধ করা যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)।
- খিচুনি রোগীদের ক্ষেত্রে একটা কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে (কার্ডের মধ্যে রোগীর নাম, রোগের নাম, ঔষধের নাম ও পরিমাণ এবং পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে)।
প্রতিরোধ করার উপায়ঃ
- শিশুর জন্মের পূর্বে গর্ভাবস্থায় মাকে নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ করানো।।
- গর্ভকালীন জটিলতা দূর করার জন্য ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে প্রসব করানো।
- পরিবারে এ ধরনের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে।
কখন খিচুনি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারেঃ
- খিচুনি যদি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়।
- এক নাগাড়ে অনেকক্ষণ খিচুনি চলতে থাকে।
- একবার খিচুনির পর জ্ঞান না ফিরেই বার বার খিচুনি হলে।
- মারাত্মক খিচুনি যদি ঔষধ দিয়েও নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
খিচুনি রোগীর জরুরি অবস্থায় করণীয়ঃ
- জোরপূর্বক দাঁত খোলার চেষ্টা না করা।
- শর্ট বা টাইট কাপড় পরা থাকলে ঢিলা করে দেওয়া।
- সম্ভব হলে রোগীকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া।
- রোগীর পাশে থাকা আগুন, পানি, ধারালো জিনিস সরিয়ে ফেলা।
- রোগীকে পানি পান করানোর চেষ্টা না করা।
- রোগীর শরীরে বাতাস করা অথবা ফ্যান এর ব্যবস্থা করা।
- খিচুনি আক্রান্ত ব্যক্তির চারদিকে ভীড় না করা।
মনে রাখতে হবে বেশির ভাগ খিচুনি হঠাৎ শুরু হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর থেমে যায়।








