নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সামরিক শাখার কমান্ডার শাহাদাত ওরফে আল বানী মাহফুজ গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর আগে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে মাহফুজের ৫ সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, শিবিরকর্মীরা জেএমবিতে অনুপ্রবেশ করে পুলিশ হত্যাসহ হোসেনী দালানে বোমা হামলা চালিয়েছে।
রাজধানীর হোসেনী দালানে ২৩ অক্টোবর রাতে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালালে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর কয়েকদিন পরই ৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় চেকপোস্টে জঙ্গিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় পুলিশ কনস্টেবল মুকুল। এ দু’টি ঘটনার পরই জঙ্গিদের সনাক্ত করতে অভিযানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্তান ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ জেএমবির ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার ভোররাতে জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার শাহাদাতকে ধরতে দারুস সালাম থানার দ্বীপনগরে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শাহাদাত।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি, পুলিশ হত্যা, বোমা হামলাসহ অনেক অপরাধে জড়িত ছিলো শাহদাতের নেতৃত্বাধীন জেএমবি।
ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, শাহাদাতসহ মোট ৫ জন হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিলো। শাহাদাত নিজেই কবরস্থানের ভেতর থেকে গ্রেনেড ছুঁড়ে মেরেছিলো। পুলিশ চেকপোস্টেও হামলার সময় সেই পিস্তলসহ বাইক চালিয়ে গিয়েছিলো এবং তার সঙ্গী ছুরি মেরেছিলো।
উদ্ধারকৃত পিস্তলটি শাহাদাতের সেই পিস্তল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা বলেন, দেশে নাশকতা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জেএমবির আড়ালে শিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। শিবিরের বেশকিছু সদস্য আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে জেএমবিতে অনুপ্রবেশ করে এ কাজ করছে বলে মনে করছেন তারা।
এ চেষ্টায় সেসব শিবির সদস্যদের হাতে নাশকতা চালানোর জন্য বেশকিছু অর্থও এসেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে; যা দিয়ে তারা মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাসসহ কিছু ক্ষুদ্রাস্ত্রও কিনেছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
নিহত শাহাদাতের আরো ৪ সক্রিয় সদস্যের নাম জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।







