শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মতো ঘটনায় ক্রিকেটার শাহাদত এবং তার স্ত্রী নিত্য জড়িত হয়ে পড়ায় সাবেক ক্রিকেটাররা লজ্জিত এবং মর্মাহত। তারা বলেছেন, এ ধরণের অপরাধ কারো কাছ থেকেই কাম্য নয়। মানুষের হৃদয়ে বাস করা একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণ আরো বেশি অনাকাঙ্খিত।
চ্যানেল আই অনলাইকে সাবেক ক্রিকেটাররা বলেন, ক্রিকেটাররা যদি এমন কাজ করেন তাহলে যে ক্রিকেটপ্রেমীরা তাদেরকে হৃদয়ে রেখেছেন সেখান থেকে ফেলে দিতে বেশি সময় নেবেন না।
শাহাদত হোসেনের ঘটনা শোনার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন খুবই লজ্জিত।
তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে অনেক বেশি লজ্জা লাগছে। মানুষ এই ধরণের কাজ কিভাবে করতে পারে! মেয়েটির জন্য দোয়া করছি যেনো খুব তাড়াতাড়ি সে সুস্থ হয়ে ওর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারে।
শাহাদতের ব্যাপারে ক্রিকেট বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নেবে কি না জানতে চাইলে বাশার বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের একটি তদন্ত টিম রয়েছে। তারা ভালো বলতে পারবে।
‘আমি আসলে জানি না। তবে হ্যাঁ, শাহাদতের ঘটনা পুরোপুরি সত্যি কিনা তা যাচাই-বাছাই করবে তদন্ত কমিটি।’
জানতে চাইলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, শাহাদত হোসেন সম্পর্কে আমি আইনগত ও নীতিগত ভাবে কোনো কিছু বলতে পারি না।
‘তবে একজন ক্রিকেটার সম্পর্কে যদি বলতে বলেন, তবে বলবো, শাহাদত যা করেছেন তা শুধু ঘৃণ্য কাজ নয় বরং এটি মানবতাবিরোধী কাজ,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারের কাছে অভিভাবকের মতো রকিবুল হাসান বলেন: মেয়েটির কাজ যদি ওদের পছন্দ না হতো তাহলে মেয়েটিকে চলে যেতো বলতো। এভাবে ছোট্ট মেয়েটির ওপর কোনো নির্যাতন করলো!
‘কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। রাগ করে কোনো কাজ করলে সেই কাজটি ভালো হয় না।’
রকিবুল হাসান বলেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আর এই শিশুর ওপর একজন ক্রিকেটার হয়ে ও এই কাজটি কিভাবে করলো আমি তা ভেবে পাই না।
‘তার এমন কাজের জন্য অামি নিন্দা জানাই। কোনো শিশুর উপর আর এই ধরণের নির্যাতন যেনো না হয় সে ব্যাপারে আমরা সবসময় সবাই সর্তক থাকি,’ মন্তব্য করে রকিবুল হাসান বলেন, সবার আগে, সবকিছুর আগে আমাদের মানুষ হতে হবে।
ক্রিকেটাররা যেহেতু মানুষের আইডল তাই তাদেরকে এ বিষয়ে আরো বেশি সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রকিবুল হাসান।







