একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও উৎসবের নগরীতে পরিণত দেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। মেঘনা নদী বিধৌত এ জেলা এক সময়ের বিএনপির শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেখানকার ৪টি সংসদীয় আসনেই রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের সংসদ সদস্য।
গত দশ বছরে জেলার রাজনীতিতে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। উন্নয়ন এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান এখন যেকোন সময়ের থেকে ভালো।
জেলার রাজনীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: লক্ষ্মীপুর কখনই বিএনপির ঘাটি ছিলো না। এখানে সব সময়ই আওয়ামী লীগের ভোট বেশি ছিলো। কিন্তু ভুয়া ভোটার তালিকা করে বরাবরই ভোটের রাজনীতিতে পেছনে ফেলেছে আওয়ামী লীগকে। তবে এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। নতুন ভোটার তালিকার পর ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ভোট বাক্স ভারি করার বিএনপির রাজনৈতিক অপকৌশল শেষ হয়ে গেছে। বিএনপি সব সময় বিভিন্ন নামে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী সংগঠন দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখতো। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সেটা থেকে লক্ষ্মীপুরের মানুষ মুক্তি পেয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগ কিভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে নিজেদের মধ্যে কোন সমস্যা নেই। কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেনো আমারা তার পক্ষেই কাজ করবো।
কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংস্থা লক্ষ্মীপুরের রাজনীতির খবর নিলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনো জেলার চার আসনে প্রার্থীর তালিকা চাওয়া হয়নি।
মেঘনা পাড়ের জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ সংসদীয় আসন। ১৭টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং রামগতি ও কমলনগর ২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই এই আসনে ৭৫ পরবর্তী সময়ে প্রথমবার ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এলাকায় বেড়েছে প্রার্থীদের আনাগোনা, চলছে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময়, গ্রুপিং লবিং আর বেড়েছে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ।
বিএনপি বিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে এসেছেন তিনি। এলাকায় কিংবা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগে বড় কোন পদ পদবী না থাকলেও তার দাবি, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: তার নির্বাচনী এলাকায় গত সাড়ে চার বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। রামগতি ও কমলনগরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, রাস্তাঘাট, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ অবকাঠামোর উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করছে। তিনি বলেন, ‘এলাকার নদিভাঙ্গন রোধ সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। আমি এই এলাকার সন্তান হওয়ায় এলাকার মানুষ আমাকে চায়। আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে এলাকার মানুষ আমাকে নিরাশ করবে না। ’
সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে তিনি রাজনীতির সাথেই আছেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তার একটি বিশেষ অবস্থান আছে।তিনি বলছেন: রামগতি ও কমলনগরের মানুষ আগে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারই এ জনপদে উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনবে। সে লক্ষ্যে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
তথ্য সহযোগিতায়: মহিউদ্দিন মুরাদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।








