রোহিঙ্গা মুসলিম। হাজার বছর ধরে যাদের বসবাস বৌদ্ধ-প্রধান দেশ মিয়ানমারে। তাদের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ। কিন্তু না মিয়ানমার না বাংলাদেশ, কেউই তাদের চায় না। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে তারা ছুটে আসছে বাংলাদেশে। জনসংখ্যার ভারে নিজেরাই সমস্যায় থাকা বাংলাদেশ তাদের স্বাগত জানাতে পারে না। জানাবেই বা কেন! এটা কোন সভ্যতার মধ্যে পড়তে পারে না যে এক দেশ নিজ দেশের নাগরিকদের গণহত্যার মাধ্যমে অন্য ঠেলে দেবে আর দ্বিতীয় দেশটি তাদের দায়িত্ব নেবে। তাই এখানেও আশ্রয় নেই তাদের। মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব রাখতে চায় না সে দেশে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সুরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে অনিশ্চিতের পথে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া খাদ্য সহায়তা, পানি, ওষুধ প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে অনাহারে কাটাতে বাধ্য করছে তারা। বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করছে মিয়ানমার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে মানাবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু কোন কিছুই তাদের বিরত রাখতে পারছে না। রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্যাতন সশস্ত্র প্রতিরোধের পূর্বাভাস দেয় যা আরো ব্যাপক দমন-নিপীড়নের জন্ম দেবে। মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে জেলা খাটা প্রভাবশালী বৌদ্ধভিক্ষু অসিন ইউরাথু এখন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। মুসলিম নির্যাতনে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে তার সমর্থকরা। মিয়ানমার থেকে এভাবে যদি মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয় তবে তা হবে বিশ্ব বিবেকের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু সহিংস প্রতিরোধ কোন চূড়ান্ত বিজয়ের আশার বাণী শোনায় না। আবার মুসলিমদের তাদের ধর্মবিশ্বাসের জন্য তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা হবে চরম ধ্বংসাত্মক। এতে মিয়ানমার সেই রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হবে যে রাষ্ট্র থেকে মুসলিম হওয়ার জন্য তার নাগরিকদের দেশ ছাড়তে হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সু চি থাকার পরও অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তিনি বিশ্ব মানবাধিকারের বার্তা ছড়িয়েছিলেন, কিন্তু নিজ দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করলেও কিছু বলছেন না। মানবাধিকারের ঢাল হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া এই ভয়ঙ্কর পণ্ডিত এখন বিদ্বেষপূর্ণ শাসনের নেত্রী হয়ে উঠেছেন। এটা যে শুধু বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক কিংবা নাগরিক সমাজ বা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ সরকারের কয়েকজন নীতি-নির্ধারকরো বলছেন, এমন নয়। এটা শুধু এমনও নয় যে শুধু মুসলিম বিশ্ব তাকে অভিযুক্ত করছে। বরং যে পশ্চিমারা তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছিল তারাও সু চি’র ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমেও সু চি’র নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে তাকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে বলেছে। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তার কাছে ছুটে গেছেন। কিন্তু কোন কিছুতেই গা করছেন না তথাকথিত শান্তির নেত্রী। আমরা আশা করব, অং সান সু চি’র বিবেক জাগ্রত হবে। সেনাবাহিনীর পুতুল না হয়ে থেকে তিনিও মানুষ হবেন, জাত-পাতের উর্ধ্বে উঠে তিনি মনুষ্যত্ব দেখবেন। সেটা দেখাবেন কি তিনি?








