মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে সমর্থন করে শহীদের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে জরিপ চালিয়ে ‘সঠিক সংখ্যা’ বের করতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীরা তাদের নির্বুদ্ধিতার কারণেই মারা গেছেন বলেও মন্তব্য করেন ওই বিএনপি নেতা।
শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাল এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বির্তক আছে। উনি কমও বলেননি, বেশিও বলেননি। বলেছেন সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে। এই বিতর্কের কথাটা কিন্তু পার্লামেন্টে উঠেছিল ১৯৯১ সালে। পালার্মেন্ট সদস্য প্রয়াত কর্নেল আকবর হোসেন প্রশ্নটা উত্থাপন করেছিলেন।”
গয়েশ্বর আরও বলেন, “আমি সাংবাদিক ভাইদের বলবো আপনারা লাইনটা দিয়া মতামত জরিপ করেন। আপনারা ম্যাসেজ দিয়া মতামত জরিপ করেন কথাটার পক্ষে-বিপক্ষে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা পত্রিকার পাতায় এরকম একটা লাইন দিয়া মতামত জরিপ দেন যে, লিখে দেন যাদের গ্রামে যতজন মারা গেছে জানাতে। একাত্তর সালে শুধু পাকিস্তানিদের গুলিতে না স্বাভাবিক মৃত্যুওতো আছে। দেখেন তারপরে কতজন মারা গেছে সে পরিসংখ্যানটা চলে আসবে। এটা নিয়ে বিতর্ক করার তো দরকার নাই।”
গয়েশ্বর নিজেও খালেদার বক্তব্যের সাথে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা আহাম্মক কিনা আমি জানি না। তাদেরকে বলবো প্রধানমন্ত্রীকে বলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এইডা একটা জরিপ কইরা ফেলেন। একটা প্রকৃত ইতিহাস চইলা আসুক। মতান্তরে যতটুকু জানি ২ লাখ ৭৬ হাজার শহীদ পরিবারের তালিকা আছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে, তাহলে বাকি ২৭ লাখ গেলো কই?”
শহীদের সংখ্যা কোনো বাণী নয় এবং তা পরিবর্তন হতেই পারে মর্মে গয়েশ্বর বলেন, “শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) যেটা বলেছেন লন্ডনের হিথরো এয়ারপোর্টে, সেটাতো ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে যে বাজারমাত করেন, সেরকম বাজারমাতের বিষয় এটা না। অজ্ঞতাবশত তিন লাখের জায়গায় তিন মিলিয়ন/৩০ লাখ হয়ে গেছে। এটা তাড়াহুড়া করতে গিয়ে পেছনে কানে কানে বলছেন আর উনি শুনছেন তাড়াহুড়ায় একটা কথা উনি বলছেন। আমরা এটাকে টার্ম হিসেবে নিয়েছি ৩০ লক্ষ।”
গত ২১ ডিসেম্বর এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তার সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নানা জায়গায় নানারকম তথ্য আছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তার ওই বক্তব্যে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া-প্রতিবাদ হচ্ছে। এক আইনজীবী উকিল নোটিস পাঠিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বলেছেন এবং নড়াইলে খালেদার নামে একটি মামলাও করা হয়েছে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৪ ডিসেম্বর নিহত বিভিন্ন পেশার খ্যাতিমান-বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ওই দিনটিকে বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালনের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “উনারা যদি এতো বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকেন কী করে, একটু বলেন তো। আর পাকিস্তান সরকারের তারা বেতন খাইল। এটা তো বুঝা যায়।”
প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সভায় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সাবেক সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, অধ্যাপক রেজাউল হক, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, রমেশ চন্দ্র দত্ত, মোজাম্মেল কবির, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খান, মতিয়ার রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।







