মেহেদী মিরাজের স্পিন ভেল্কি, শরিফুলের দারুণ বোলিং, আর মুমিনুল হকের তুলির শেষ আঁচড়, নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার সকালে সাফল্য এনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫ রান তুলে স্বস্তির লাঞ্চ বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ১ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৩ রানে অপরাজিত।
মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৫ উইকেটে ২৫৮ রানে কিউইরা দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে। তৃতীয় বলে এবাদত হোসেনকে রাচিন চার মারলেও পরে রান তুলতে ঘাম ঝরাতে হয় স্বাগতিকদের। টানা ৪ ওভার তারা রানের দেখা পায়নি। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চেপে ধরেন শরিফুল ও তাসকিন।
অফস্টাম্পের উপর করা শরিফুলের ফুল লেন্থের বলে চার মারা রাচিন রবীন্দ্র পরে ডিফেন্স করতে গেলেও দেরি করে ফেলেন। বল তার ব্যাটে আলতো চুমু দিয়ে তৃতীয় স্লিপে চলে যায়। সাদমান সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল তালুবন্দি করেন।
নিজের করা প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন মিরাজ। নিকোলস ফ্লিক শট খেললে বল বাতাসে ভেসেছিল, শর্ট লেগে হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাকা জয় সহজ ক্যাচ ধরতে পারেননি।
জেমিসন খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। প্রথম পানি পানের বিরতির পর মিরাজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লংঅনে সাদমানের হাতে ধরা পড়েন। তার উইলো থেকে ৬ রানের বেশি আসেনি।
সাউদির উইকেটও তুলে নেন মিরাজ। স্টাম্পের উপর করা কুইক ডেলিভারিতে সাউদি চিপ শট খেলতে গিয়ে মুমিনুলের হাতে ধরা পড়েন। পরের বলেই নিল ওয়াগনার মিরাজের টার্ন বলে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়েন। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় রিভিউ নিতে হয়, সফলতা মেলে। তাতে মিরাজের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগে।
বল হাতে চতুর্থ উইকেটের দেখা না পাওয়াটা মিরাজের জন্য খানিক আক্ষেপের। লংঅনে ট্রেন্ট বোল্টের ক্যাচ যে ছেড়ে দেন সাদমান। পরের ওভারে মুমিনুল নিজেই বল হাতে নেন। তাতেই বাজিমাত। ১২ চারের মারে ৭৫ রান করা নিকোলস শর্ট থার্ডম্যানে থাকা সাদমানের হাতে বল তুলে দেন। শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস। বোল্ট ৯ রানে অপরাজিত থেকে যান।
শরিফুল ইসলাম ৬৯ রানে নেন ৩ উইকেট, মেহেদী মিরাজ ৮৬ রানে ৩ উইকেট নেন। মুমিনুল হক মাত্র ৬ রানে দুটি এবং ইবাদত হোসেন নেন একটি উইকেট।








