বলের রং লাল বা গোলাপি যাই হোক না কেনো, গল্প সেই একই। পেসের সামনে ‘মৃগী রোগীর’ মতো কাঁপুনি দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ইনিংসে কোনো রকমে ১০০ পেরিয়ে প্যাকেট। সেই গল্পের ট্র্যাডিশন মেনে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু। মাঝে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর’র হালকা লড়াই। দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ধসে গোলাপি বলের টেস্টে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারল এক ইনিংস ও ৪৬ রানে।
ভারত সফরের শুরু এবং শেষটা একেবারেই বিপরীত। দুর্দান্ত প্রতাপে টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে স্বাগতিকদের ভয় ধরানো। তারপরই উল্টো পথে হাঁটা। যে পথে আর বাঁক খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। দুই টি-টুয়েন্টিতে লড়াই করলেও দুই টেস্টের সিরিজে অসহায় আত্মসমর্পণ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১০৬ রানে শেষ হওয়ার পর প্রত্যাশা মতোই ভারতীয় ব্যাটিংয়ে লম্বা ইনিংসের গন্ধ পাওয়া যায়। পূজারার সঙ্গে ইনিংসের ইট গাঁথার পর তাতে সিমেন্ট লাগানোর কাজটা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে করেন বিরাট কোহলি। অধিনায়কের ১৩৬ রানই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। একটাই প্রশ্ন ছিল, তৃতীয় দিনে গড়ানো ম্যাচে ইনিংস হার এড়াতে পারবেন কিনা মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। সেটাও শেষ পর্যন্ত হয়নি। চার উইকেট হাতে নিয়ে এদিন ব্যাট হাতে নামেন মুশফিকুর রহিম ও ইবাদত হোসেন। রোদে ফিল্ডারদের জার্সি গরম হওয়ার আগেই আউট ইবাদত (০)। লড়াইয়ের ‘সবে ধন নীল মণি’ মুশফিক (৭৪) যা একটু বেশি সময় কষ্ট দিলেন ভারতীয়দের।
টেস্ট ক্রিকেটার বলের লাইনে গিয়ে মাথা সোজা রেখে খেলবে, একথা সবারই জানা। কিন্তু গোলাপি বল যখন বাড়তি সুইং করে, কতটা দেরিতে বলটা খেললে ঝুঁকিহীন থাকা যাবে, সেটাই ছিল ইডেনের আসল পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় দাহা ফেল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
টপঅর্ডারের চারজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন দশের ঘর ধরার আগে। তার মধ্যে দুজন আবার খাতা খোলার আগেই। লেজের ব্যাটসম্যানদেরও সেই একই দশা। ফলে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০’র কাছাকাছি গিয়ে। অর্থাৎ, ৯ উইকেটে ১৯৫ রানে থামতে হয় বাংলাদেশকে। ইনজুরির কারণে ব্যাটে নামতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় দিনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি, হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে।
একে তো গোলাপি বল। তার উপর ভারতের বর্তমান বোলিং অ্যাটাক, যাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ধরা হচ্ছে। এমনও বলা হচ্ছে ভারতের এই বোলিং আক্রমণ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকেও ভয় ধরাবে। বিরাটের থ্রি-মাস্কেটিয়ার্স, উমেশ-ইশান্ত-সামির সামনে একেবারে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বাংলাদেশের ব্যাটিং।
সামির বাউন্সার কপালে লেগে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের আর ব্যাটিং করা হয়নি, বোলিং করা হয়নি নাঈম হাসানের। দুটো ক্ষেত্রেই ক্রিকেটের নতুন নিয়মে বাংলাদেশকে নামাতে হয় ‘কনকাশন’ বদলি। লিটনের জায়গায় মেহেদী হাসান মিরাজ আর নাঈমের জায়গায় তাইজুল ইসলাম খেলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ার পর তৃতীয়দিন আর ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। তার ৩৯ রানই হয়ে থাকে মুশফিকের ৭৪’র পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস।
ভারতের তিনজন বোলার একাধারে ১৩৫-৪০’র উপর গতিতে বল করে গেছেন, যেটা কোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য মোকাবেলা করা কঠিন। কিন্তু ভারতীয় বোলিংয়ের ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা জানা থাকার পরও কোন যুক্তিতে টস জিতে মুমিনুল ব্যাটিং নিয়েছিলেন, সেটাও রহস্য!
মাত্র ৩১ ওভারের মধ্যে যখন একটা দলের ইনিংস শেষ হয়ে যায়, তখন সে ম্যাচের ভাগ্যে যা ঘটার সেটাই ঘটল ইডেনে। ম্যাচের পৌনে তিনদিন বাকি থাকতে বাক্স-পেটরা গোছানো শুরু দলের।
প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া ইশান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে নিলেন ৪টি। আগের ইনিংসে ৩ উইকেট নেয়া উমেশের নামের পাশে এবার ৫ উইকেট।








