লন্ডন হামলায় নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। এদের একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন স্কুল শিক্ষিকা এবং আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে হামলাকারী সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। ইতোমধ্যে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
নিহত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের নাম কারট ককরান। তিনি দেশটির উটাহতে বাস করেন। বিয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্ত্রী ম্যালেসা ককরানকে নিয়ে লন্ডনে ঘুরতে এসেছিলেন তিনি। একই ঘটনায় ম্যালেসা মারাত্মক আহত হয়েছে। তার একটি পা, পাজরের হাড় ভেঙে গেছে। মাথার অনেক খানি কেটে গেছে।
ম্যালেসার ভাই ক্লিনট পেয়েন সামাজিক যোগাযোগে দেয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন : আমাদের প্রিয় দুলাভাই কারটকে বিদায় বলতে হল। আজ আমরা খুবই মর্মাহত। লন্ডনের গতকালের হামলায় প্রচণ্ড আঘাতে তার মৃত্যু হয়। আমরা তাকে খুবই ভালোবাসি এবং তাকে কখনোই ভুলবো না।

কেইথ পালমার ৪৮ বছর বয়সী নিরস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি পার্লামেন্ট ভবনের গেইটে দায়িত্বরত ছিলেন। হামলাকারীর ছুরির আঘাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, আজ এমন একজন পিতা, একজন স্বামীকে আমরা হারালাম, যিনি ভালোবেসে কাজ যে কাজ করতেন, সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিলেন। তিনি প্রকৃত বীর। তার এই আত্মত্যাগ জাতি সব সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
নিহত নারীর নাম আয়শা ফ্রেড। তিনি এক জন স্প্যানিশ শিক্ষিকা যিনি স্কুল থেকে বাচ্চাদের বাড়ি নিয়ে আসতে যাচ্ছিলেন। ৪৩ বছর বয়সী আয়েশা ফ্রেড, ওয়েস্টমিনসটার ব্রিজের কাছে পথচারীদের উপর গাড়ি উঠিয়ে দিলে গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, আয়েশা লন্ডনের কাছে অবস্থিত ডিএলডি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার ৮ বছর এবং ১১ বছর বয়সী দুইটি মেয়ে রয়েছে। ফ্রেডের মৃত্যুর সংবাদে ডিএলডি কলেজের প্রিন্সিপাল রেচায়েল বোরল্যান্ড গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, নিহতের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করতে আমরা আমাদের সব ধরনের সহায়তা করবো। আয়শা আমাদের কলেজের প্রশাসনের টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে খুবই ভালোবাসতো এবং শ্রদ্ধা করতো। তার অভাব সবাই ভীষণভাবে অনুভব করবে।
বুধবার দুপুরের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের কাছে ছুরিকাঘাত ও ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে গাড়ি চাপা দিয়ে হামলায় পুলিশসহ ৫ জন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ৪০ জন। পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়।

হামলার শুরুটা লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে। শহরের ব্যস্ততম ব্রিজটিতে সাধারণ মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেয় হামলাকারী। হতাহতরা রাস্তায় পড়ে থাকার মাঝেই ব্রিজ থেকে নেমে মোড় ঘুরে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যায় গাড়িটি।
পার্লামেন্ট গেটের নিরস্ত্র পুলিশ সদস্যরা তাকে থামাতে গেলে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে তাদের ছুরিকাঘাত করে। পরে অস্ত্রধারী পার্লামেন্ট ভবনের দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
হামলার পরপরই পার্লামেন্ট অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ভেতরে আটকে পড়া এমপি ও দর্শনার্থীদের নিরাপদে বের করে আনে পুলিশ। এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।
এ হামলাকে ‘বিকৃত মানসিকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের কাছে ব্রিটেন মাথা নত করবে না।
এছাড়া লন্ডন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে লন্ডন পুলিশের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো লড়াইয়ে ব্রিটেনের পাশে থাকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি।








