একটি মাত্র টেস্ট। হাজার রঙ তার। শেষ হয়েছে ২০৮ রানের পরাজয়ে। চোখ এখন শ্রীলঙ্কা সফরে। মাঝে একটাদিন পেরিয়ে গেলেও রেশ কাটছে না ওই হারের। সদ্য সমাপ্ত টেস্ট থেকে অপ্রাপ্তির লাইনগুলো লম্বা হলেও প্রাপ্তিও যে নেহাত কম নয়। সেই সব স্মৃতি নিয়ে এই আয়োজন।
টালমাটাল টপ অর্ডার: শুরুতে কেউ ভালো খেললে অন্যদের মধ্যে সাহস সঞ্চারিত হয়। হায়দরাবাদ টেস্টে এই সুবিধা একদমই পায়নি বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার প্রস্তুতি ম্যাচে অর্ধশতক করে স্বপ্ন দেখালেও আসল লড়াইয়ে সেই পায়ের তলায় মাটি খুঁজে ফিরেছেন। তামিম থিতু হওয়ার আগেই দুই ইনিংসে বিদায় নেন। প্রথম ইনিংসে ২৪ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩ রানের মাথায় ফেরেন তিনি। অন্যদিকে সৌম্য সরকার দুই ইনিংস মিলিয়ে করতে পারেন ৫৭। মিডলে মাহমুদউল্লাহ-সাব্বিরও সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি। শ্রীলঙ্কা সফরে এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে বিপাকেই পড়তে হবে।
কাটেনি শর্ট বলের দুর্বলতা: নিউজিল্যান্ড সফরে যে শর্ট বলে দুর্বলতা ছিল ভারতেও তাই। সঙ্গে যোগ হয় রিভার্স সুইংয়ে হাঁসফাঁস। ভারতের তিন পেসারই রিভার্স সুইংয়ে তামিমদের বিভ্রান্ত করেছেন। বোলিংয়েও ঠিক একই অবস্থা। তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং কামরুল ইসলাম রাব্বীর প্রতিভা নিয়ে কারো সংশয় নেই। কিন্তু অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় তল পাননি। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় লঙ্কান স্পিন-ভীতি ও কন্ডিশন তাতে ব্যাটসম্যান-বোলার প্রস্তুতিটাও হতে হবে বাড়তি কিছু।
মুশফিকের সেঞ্চুরি: ব্যাটিংয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থার মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রথম ইনিংসে শতক হাঁকিয়ে দলকে পথে রাখার চেষ্টা করেন। উইকেটের পেছনে তার ভূমিকা নিয়ে কথা উঠলেও ব্যাট দিয়ে সামাল দিয়েছেন। অধিনায়ক ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে বিরাটের চেয়েও বেশি বল মোকাবেলা করেন। ভারতীয় অধিনায়ক মোকাবেলা করেন ২৪৬টি বল। মুশফিক ২৬২টি। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দেশে বাংলাদেশকে প্রথম দ্বিশতক এনে দেওয়া মুশফিকের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আরো বেশি।
মিরাজের মিরাজ হয়ে ওঠা: বল হাতে সেই ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে আলো ছড়ালেও ব্যাটসম্যান মিরাজকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিলো না। অবশেষে ভারতের বিপক্ষে প্রথম অর্ধশতকের দেখা পান। প্রথম ইনিংসে ভুবনেশ্বরের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০৭ বল খেলে ৫১ রান করেন। এই ছন্দ বজায় থাকুক লঙ্কাপারেও।








