র্যাবের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন র্যাবের গুলিতে এক পা হারানো সেই লিমন। নিজের প্রতি অবিচারের সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগে লিমন বলেন, ‘আমার অভিযোগ হচ্ছে র্যাব একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই আমার পক্ষ থেকে বিলুপ্তির দাবি যানাচ্ছি। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের সময়কালে সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছি, তা থেকে মুক্তি চাই। র্যাব-৮ এর কতিপয় সদস্য আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রঠেকিয়ে গুলি করে। মামলা করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা নিতে চায়নি। কোন রকম দায় সারা ভাবে মামলা রেকর্ড করে তৎকালিন দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ১৩ বছর ধরে আমি ও আমার পরিবার হয়রানির শিকার হয়ে আসছি। আমি ও আমার পরিবার ২০১১ সালের পর থেকেই ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোষরদের কর্তৃক বার বার হামলা মামলার শিকার হচ্ছি। তাই আমি ও আমার পরিবারের সকলের নিরাপত্তা চাই রাষ্ট্রের কাছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্রুত বিচার কার্য সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি ও আমার ক্ষতিপূরণ দাবী করছি। সেই সাথে তৎকালিন র্যাব-৮ এর প্রধান মেজর রাশেদ, র্যাবের সহকারি মহাপরিচালক জিয়াউল হাসান ও শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকির নাম মামলায় অর্ন্তভুক্তি করার জন্য রাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাচ্ছি।’
২০১১ সালের ২৩ মার্চ র্যাব সদস্যরা কলেজছাত্র লিমনের ‘পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে’ গুলি করে। ওই ঘটনা তখন হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতীক। আইনে স্নাতকোত্তর শেষ করে সেই লিমন এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বরিশাল র্যাব-৮ এর সদস্যরা লিমনকে গুলি করে। তখন র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, লিমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ জমাদ্দারের সহযোগী। মোর্শেদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর সময় কলেজছাত্র লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) চিকিৎসা চলাকালে লিমনের বাঁ পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলতে হয়। ওই ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল ঝালকাঠির আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তই এখনো শেষ হয়নি।








