শুরুর ধাক্কা, মাঝের প্রতিরোধ ও শেষে দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ভারত অনুর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে পাকিস্তানি যুবারা। জিশানের তোপে আড়াইশর নিচে ভারতীয় যুবাদের থামানোর পর শেষ বলের সমীকরণে মিলল আকরাম-আহমেদদের জয়।
দুবাইয়ের অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারতীয় যুবাদের বিপক্ষে দিনটা নিজেদের করে নেন জিশান জমির। মিডিয়াম এ পেসারের ফাইফারে বর্তমান যুব এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা থামে ২৩৭ রানে। জবাবে বাজে শুরুর পর শেহজাদের ফিফটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। শেষ সময়ে দ্রুত উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরে ভারত যুবারা।
ম্যাচের ফল পেতে পাকিস্তানের যখন প্রয়োজন ছিল ২ ওভারে ১৮ রানের, তখন পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে আসেন আহমেদ খান। ম্যাচে প্রায় সময়ে ব্যাকফুটে থাকা ভারত শেষ সময়ে ম্যাচের ফল নিজেদের দিকেও টানতে থাকে। কঠিন লড়াইয়ে শেষটা অবশ্য ছিল পাকিস্তান যুবাদের।
ইনিংসের শেষ ওভারের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দেন রবি কুমার। প্রথম বলে জিশানকে ফেরানোয় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় নিয়ে নেয় তারা। পরের চার বলে সিঙ্গেল-ডাবলে ৬ রান তুললে শেষ বলে সমীকরণ দাড়ায় ২ রানে। উত্তেজনাপূর্ণ শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে জয়ের আনন্দে মাতেন আহমেদ খান। দুই উইকেটের জয় পায় পাকিস্তান।
খেলার শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। শুরুর ওভারেই তোপ দাগেন জিশান। পরে এ পেসার তুলে নেন আরও চার ভারতীয় ব্যাটারকে। ১০ ওভারে ৬০ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট।
জিশানের তোপে শুরুর ১৪ রানে ৩ ব্যাটার হারিয়ে ফেলা ভারতকে পথ দেখান হারনুর সিং। ৫৯ বলে ৪৬ রান করে শিকার হন আওয়াইস আলির বলে।
টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে দুর্দান্ত ফিফটি করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার আরধ্য যাদব। জিশানের চতুর্থ শিকার হওয়ার আগে ৮৩ বলে ৩ চারে করেন ৫০ রান।
আসা-যাওয়ার দিনে দৃঢ়তা দেখান ভারতের দুই টেলএন্ডার কুশল-রাজবর্ধন। দুজনের ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে ২৩৭ রানের লড়াকু লক্ষ্য পায় ভারত।
জিশান জমিরের দিনে দুর্দান্ত ছিলেন আইওয়াস আলীও। ৮ ওভারে ৪৩ রান খরচায় ফেরান দুই ভারতীয় ব্যাটারকে।
জবাবে পাকিস্তান শুরুতেই হারায় আবদুলকে। এরপর বেশ কয়েকটি জুটিতে ম্যাচের ফলের দিকে এগোয় পাকিস্তান যুবারা। ১০৫ বলে ৪টি চার ও ৫ ছয়ে ৮২ রান করেন মোহাম্মদ শেহজাদ। রান আউটের ফাঁদে পরে হারান শত রান গড়ার সুযোগ।
শেষ দিকে বোলিংয়ে দৃঢ়তা দেখান রাজ রাওয়া ও রাজবর্ধনরা। তবে শেষটা নিজেকে রাঙিয়ে জয় এনে দেন আহমেদ। ১৯ বলে খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ২৯ রানের ইনিংস।
দুই উইকেটের জয়ে ‘গ্রুপ এ’ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে পাকিস্তান। সমান ম্যাচ ও পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও তিনে ভারত ও আফগানিস্তান। গ্রুপের সেরা দুই দল লড়বে সেমিফাইনালে। নতুন বছরের শুরুর দিনে নির্ধারণ হবে চলমান আসরের চ্যাম্পিয়ন।
আমিরাতকে গুড়িয়ে টিকে থাকল আফগানরা
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অল্পতে গুটিয়ে আসরের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। ১৪০ রানের জয়ে টেবিলে ভারতের সমান পয়েন্ট নিয়ে আসরে টিকে থাকল আফগান যুবারা।
আরব আমিরাতের বোলারদের তোপে ধ্বংসস্তুপে রূপ নেওয়া ইনিংসে শতক হাকান আললাহ নুর। ১২৩ বলে ১১ চার ১ ছয়ে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকা নুরের ব্যাটেই দলীয় ১৯৭ রান তোলে আফগান যুবারা।
জবাবে বিলাল সামি ও খালেল আহমেদের তোপে পড়েন স্বাগতিক দল। কোনোমতে পঞ্চাশ পেরোনো দল থামে ৫৪ রানে, খেলতে পারেন মাত্র ১৪.৪ ওভার। ছয় ব্যাটসম্যানের শূন্য রান দেখার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান নিলানস কেশওয়ানির (১৫)। আফগানদের পক্ষে তিনটি করে উইকেট তুলেছেন বিলাল ও খালেল।








