প্রযুক্তির বিস্ময়কর উৎকর্ষতার এই সময়ে অনেক অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে মানুষের জীবনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল প্রচলনের ফলে ভার্চুয়াল সম্পর্কের বিস্তার বাড়লেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতাবোধও প্রকট হয়ে উঠেছে।
মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট এই ভয়াল পরিস্থিতির মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন আরও আতঙ্কিত হওয়ার মতো এক তথ্য। যৌন বা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও রোবটেরাই মানুষের সঙ্গী হয়ে উঠবে! আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই অচিন্তনীয় এই বিষয়টিই প্রথা হয়ে উঠবে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা তাদের ধারণার স্বপক্ষে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিস্থিতিও তুলে ধরেন।
তাদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক মানবের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিলক্ষিত হবে। এই ভবিষ্যতবাণীর প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ক্রমেই ‘গার্লফ্রেন্ড এপ’ এর ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে। মানুষের মধ্যকার যোগাযোগ হ্রাসের ফলে বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং হতাশায় আচ্ছন্নতা রোবটের সাথে সম্পর্ক তৈরির প্রতি মানুষকে ধাবিত করবে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে মানুষেরা এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখতে পাবে না এবং কেউ কেউ যন্ত্র মানবকে সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করবে। চ্যানেল ফোরে থ্রিলার হিউম্যানস অনুষ্ঠানে মানুষ এবং রোবটের মধ্যকার যৌন সম্পর্কের একটি দৃশ্য দর্শকদের বিস্মিত করলেও অচিরেই তা মানব প্রজাতির মধ্যে প্রথা হয়ে উঠতে পারে।
যৌন মনস্তত্ত্ববিদ ডা. হেলেন ড্রিসকোল বলেন, অনলাইন গেমস এবং সামাজিক মাধ্যমের মতো ভার্চুয়াল জগতে অনেকটা সময় কাটানোর মাধ্যমে এনড্রয়েডস এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটাতে পারে। এর ফলে নিকট ভবিষ্যতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানব জাতি মেশিনকেই সঙ্গী হিসেবে আলিঙ্গন করতে পারে বলে অশুভ ইঙ্গিত দেন হেলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট’এ প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে ডা. ড্রিসকোল বলেছেন যৌনতার জন্য পুতুল এর অস্তিত্ব ইতিমধ্যেই বিদ্যমান এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রযাত্রা এসব যৌনতার কৃত্রিম সঙ্গীকে আরও জীবন্ত করে তুলবে।
রোবটের প্রতি যৌন আকর্ষণকে ‘রোবোফিলিয়া’ শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যা আমাদের কাছে এখন অদ্ভূত মনে হলেও প্রযুক্তির প্রতি আসক্তির ফলে এটাই আমাদের কাছে সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
ড্রিসকোল বলেন, ভার্চুয়াল জগত যেহেতু আরও বাস্তবিক এবং আসন্ন হয়ে উঠছে এবং তা মানুষের মধ্যে যৌন অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে অনুকরণ এবং আরও উন্নত করে তুলতে পারে, তাই এটা ধারণা করা যায় যে, কেউ কেউ যৌনতার জন্য খুঁতযুক্ত মানুষের চেয়ে নিখুঁত রোবটকেই পছন্দ করবে। অধিকন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে মেশিন এমনকি কম্পিউটার প্রোগ্রামও মানুষের সাথে আবেগীয় সম্পর্ক বা ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী হয়ে উঠতে পারে।
ভার্চুয়াল সম্পর্ককে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার সাধারণ ধারণাটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গী হারানো এবং একাকি থাকা মানুষরা ভার্চুয়াল যৌন সম্পর্কের দ্বারা মানসিকভাবে সুবিধালাভ করতে পারেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন ড্রিসকোল। ‘ভার্চুয়াল সঙ্গী কোনো সঙ্গী না থাকার চেয়ে ভালো।’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জাপানের তরুণ জনগোষ্ঠি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই যৌনতা এবং অন্তরঙ্গ সম্পর্ককে এড়িয়ে চলেন। অর্ধেক জাপানি প্রাপ্তবয়স্করা আর যৌন জীবন উপভোগ করেন না বলেও জানিয়েছেন।
আগস্টের শুরুতে চীনের তৈরি জিয়াইস নামক ‘গার্লফ্রেন্ড এপ’ সঙ্গীবিহীন হাজারো মানুষকে সঙ্গ দিয়েছে বলেও এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়।
এই ধারাটিকে সমস্যাজনক মনে হলেও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি দূরিভূত হবে, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিনের মধ্যে পার্থক্য আর পরিলক্ষিত হবে না বলে জানান ডা. ড্রিসকোল।







