মিশরের প্রাচীন রাজধানীর কাছাকাছি নীল নদের পশ্চিম তীরে রাজাদের উপত্যকায় ৩ হাজার বছর বয়সী রাজকীয় সমাধি দেখতে সবসময়ই জনতাকে ভীড় এড়িয়ে যেতে হতো। কিন্তু ২০১১ সালের মিশরের ‘নীল বিপ্লবের’ সময় থেকে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।
সেখানকার পর্যটকদের হার ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে অনেক মিশরীয়র জীবন-জীবিকায় ভাটার টান পড়েছে। ‘নীল বিপ্লবের’ পর মিশরের চিরকালীন পর্যটন শিল্প আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০১০ সালে ১৪ দশমিক ৯ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক মিশর সফর করে।
২০১১ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৮ মিলিয়নে। তবে কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার এই সংখ্যা গত বছর কিছুটা বেড়েছিলো (৯ দশমিক ৯)। কিন্তু সর্বশেষ রাশিয়ান বিমান বিধ্বস্ত এবং তা নিয়ে আইএস বিতর্কে মিশরের পর্যটন শিল্প আবার ধাক্কা খেলো।
বিপ্লব সময়কার চেয়ে মিশনের বেকারত্বের হার ৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। অর্থনীতির অন্যসব ক্ষেত্র নিম্নমুখী হওয়ায় মিশরের অর্থনীতি এখনো পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট শ্রমশক্তির ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এই খাতে কাজ করে। গত বছর মিশরের মোট জিডিপির ১২ দশমিক ৬ শতাংশই আসে পর্যটন থেকে। আর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ২০ শতাংশ আসে এই খাত থেকেই।
গত সপ্তাহে মিশরের শার্ম এল-শেইখ শহর থেকে উড্ডয়নের পর ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় রুশ বিমান। আরোহীদের সবাই মারা যায়। ঘটনা নিহতদের পরিবারের জন্য যেমন ট্র্যাজেডি, তেমনি মিশর ও তার জনগণের জন্যও ট্র্যাজেডির।
যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি সন্ত্রাসী হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে রুশ বিমান? এই বিতর্কের শেষ না হলেও শেষের শুরু দেখছে মিশরের পর্যটন, অর্থনীতি ও তার জনগণ।
মিশরের নানা সৌন্দর্য দেখতে সারা দুনিয়া থেকেই পর্যটক আসে। এই তালিকায় সবার উপরে আছে ইউরোপিয়ানরা। সৈকতের ৭০ শতাংশই থাকে তাদের দখলে।
নিজ দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না হলেও মিশর যাওয়া পর্যটকদের বিশাল অংশই রাশিয়ান। গত বছর শুধু রাশিয়া থেকেই ৩.১ মিলিয়ন পর্যটক মিশরে গিয়েছিলো। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সেই সংখ্যা ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন।
বিমান বিধ্বস্তের সময়ও মিশরে অবস্থান করছিলেন রাশিয়ার ৮০ হাজার পর্যটক। মিশরে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়ে এখন বিশেষ ব্যবস্থায় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। ২১টি আলাদা আলাদা ফ্লাইটে নিজ দেশের কয়েক হাজার নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইঙ্গ-রুশদের পথ ধরে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করছে অন্য সব দেশও।
আইএস হামলা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হোক, রুশ বিমান বিধ্বস্তের ফলে ২২৪ জন বেসামরিক মানুষের সাথে বিপর্যয় নামলো মিশরের পর্যটন, অর্থনীতি ও জনগণের উপর।







