আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন আইডিএফ’র হিসেবে বাংলাদেশে ৭০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। এই রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই বাস্তবতায় ‘রুখো ডায়াবেটিস’ এই শ্লোগানে আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিসব পালিত হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের লাউতা গ্রামের ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ তৈয়বুর রহমান। গ্রামের পথে পথে হেঁটে হেঁটে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় পচন ধরা বাম পা হারাতে বসেছেন তিনি। চিকিৎসকরা বলছেন, সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেই অঙ্গহানির মত এমন জটিলতায় পড়েন ডায়াবেটিস আক্রান্তরা।
বারডেম হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক ও উপ-পরিচালক ডা. নাজিমুল ইসলাম জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের গাইড বইতে লেখা আছে কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে,অঙ্গহানী এড়ানোর উপায় সেখানে লেখা আছে।
একই ভাবে ২১ থেকে ২৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী কিডনী জটিলতায় ভুগছেন। জীবন বাঁচাতে ডায়ালাইসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন ডায়াবেটিস আক্রান্তরা ।
বারডেম হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল মানসুর বলেন, বছরে অন্তত দু’বার চেকআপ করাতে হবে, মূত্রপরীক্ষা, রক্তচাপ মাপা ছাড়াও প্রয়োজনে চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে।
ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কিডনী, হার্ট, ব্রেন, এবং চক্ষুর মত স্পর্শরকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকে। এ কারণে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন আইডিএফ’ ডায়াবেটিসকে বিশ্বের অন্যতম মহামারি হিসেবে গন্য করে। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা আশংকাজনক ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় এসেছে পাঠ্যসূচিতে ডায়াবেটিস সম্পর্কে পাঠদান অর্ন্তভুক্ত করার। এছাড়াও স্কুল পর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষায় ক্রীড়ার বিষয়টি মার্ক ভিক্তিক বাধ্যতামূলক করা। রাস্তায় ফুটপাত ব্যবহার উপযোগী করে হাঁটার জন্য ব্যক্তি-পরিবারে সচেতনতার বাইরে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও জরুরি মনে করেন তারা ।








