লা লিগায় শনিবারের ম্যাচে লেভান্তের বিপক্ষে গোলটি করে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের গোল মেশিন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য সাধারণ উচ্চতায়। রিয়ালের অপর এক কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে ছাড়িয়ে লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন এই পর্তুগিজ সুপার স্ট্রাইকার।
গতি ও ড্রিবলিং’এর দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখানো রোনালদোর শীর্ষে পৌছানোর ক্ষেত্রে স্পেনের স্ট্রাইকার রাউলের চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে। রিয়ালের বিখ্যাত সাদা জার্সিতে ৩২৩ গোল করতে রাউলের যেখানে খেলতে হয়েছে মাত্র ৭৪১ টি ম্যাচ সেখানে রোনালদো ৩২৪ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন মাত্র ৩১০ ম্যাচে। রিয়ালের আরেক কিংবদন্তি আলফ্রেড ডি স্টেফানো ৩৯৬ ম্যাচে করেন ৩০৮ টি গোল।
তবে বার্সেলোনার লিউনেল মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে ক্লাবে যেমন কোন দ্বিধা নেই রোনালদো ক্ষেত্রে ব্যাপারটি তেমন নয়। ‘আমার অধীনে খেলা প্লেয়ারদের মধ্যে রোনালদোই সেরা নয়’ সম্প্রতি মাদ্রিদ কোচ রাফায়েল বেনিতেজের এমন বিস্ময়কর মন্তব্যের পরের দিন বার্সা কোচ লুইস এনরিকে মেসির সম্পর্কে বলেছেন, মেসি বিশ্বের এবং ইতিহাস সেরা। যেখানে ফুটবলের সেরা খেলোয়ার হিসেবেই মেসিকে বর্ণনা করা হয় সেখানে রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই।
১৯৩৯-১৯৫৪ সময়কালের স্ট্রাইকার সিজার রুদ্রিগেজের ২৫৩ গোল ছাড়িয়ে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার মেসি বার্সার সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হন ২০১২ সালের মার্চে। নিজেকে অনতিক্রম্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া মেসির কাতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে গোলসংখ্যা এখন ৪৯৩ ম্যাচে ৪১৮টি।
বার্সেলোনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা মেসি ক্যাম্প ন্যু ক্লাবের পক্ষে সাতটি লীগ শিরোপা ও চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগসহ ২৫ টি ট্রফি জিতেছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ইনজুরির বাধা কাটিয়ে গত মৌসুমেই আবার ক্লাবকে জিতিয়েছেন দ্বিতীয় ট্রেবল। এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রোনালদো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৬ মৌসুম কাটানো রোনালদো সাতটি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র একটি লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
১৯৫০ বা ১৯৬০ এর দশকে আলফ্রেড ডি স্টেফানো ও প্যাসো গেন্টোদের মতো তারকা খেলোয়ারদের সময়ে প্রথম পাঁচ ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী মাদ্রিদ ফুটবলকেই শাসন করেছেন। ১৮ টি শিরোপা জয়ী রিয়ালের সেই যুগের শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার বিবেচনা করা হতো কিংবদন্তি ডি স্টেফানোকে। গত বছর ৮৮ বছর বয়সে মারা যাওয়া রিয়ালের সাবেক খেলোয়ার, কোচ এবং অনারারি প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধা নিবেদনে নিজেদের ওয়েবসাইটে ক্লাবটির সর্বকালের সেরা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্টেফানোকে। শ্রদ্ধা নিবেদনে লেখা হয়, সুপার ব্যালন ডি’অর জয়ী একমাত্র খেলোয়ার তিনি। ক্লাবের পক্ষে ১১ টি মৌসুম তিনি খেলেছেন ও রিয়ালের আধিপত্যের মূল চালিকা ছিলেন। আর্জেন্টিনার ব্যুন্স আইরেসে জন্ম নেয়া স্টেফানোকে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত বছরের ওয়ার্ল্ড ক্লাব কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লীগ ক্রাউন সত্ত্বেও বর্তমান যুগে বিশ্ব কর্তৃত্বের দাবি করতে পারে না রিয়াল। ২০০৯ সালের ৯৪ মিলিয়ন ইউরোতে রোনালদোর বার্নাব্যুতে আগমনের পর থেকে বার্সার ১৭ টি ট্রফির পাশে রিয়ালের সাতটি ট্রফি সেই সাক্ষিই দেয়। শনিবারের আগে পর্যন্ত রিয়ালের সর্বকালের সেরা গোলদাতা রাউলের সময়েও তিনটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ও ছয়টি প্রিমেরা ডিভিশন শিরোপাসহ ১৬ টি ট্রফি জিতে রিয়াল।
নিঃসন্দেহে মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বার্সেলোনার মেসির মতো ক্লাবটির হয়ে শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে রোনালদোকে বিবেচনা করা হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এ সমস্ত দ্বিধা দূর করে স্টেফানো বা অন্যদের অতিক্রম করতে হলে রোনালদোকে আরো কয়েকটি শীর্ষ শিরোপা জয় করতে হবে। প্রায় ৩১ বছর বয়সে পা রাখা রোনালদোর জন্য চ্যালেঞ্জটা একটু কঠিনই মনে হয়।
সূত্র : গোলডটকম






