চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে হল না রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা। দ্বিতীয় লেগেও হার। আর্সেনালের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে। দুই লেগ মিলে ৫-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হল প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে। সেমিফাইনালে ইংলিশ জায়ান্টরা মুখোমুখি হবে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের।
লস ব্লাঙ্কোসদের হারিয়ে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালে উঠেছে গানাররা। ২০০৯ সালে সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিতে খেলেছিল আর্সেনাল। ইংলিশদের দুই গোলের একটি করেছেন বুকায়ো সাকা, অপরটি গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির। রিয়াল মাদ্রিদের একমাত্র গোলটি করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
সেমিতে অপর ম্যাচে ইন্টার মিলান ও বায়ার্ন মিউনিখের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ ২-২ সমতায় শেষ হয়েছে। দুই লেগ মিলে ৪-৩ ব্যবধানে বায়ার্নের বিপক্ষে জিতে সেমির টিকিট কেটেছে ইতালির দলটি। সেমিতে ইন্টার মিলান খেলবে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার বিপক্ষে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় মিনিটেই চমকে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও কাইলিয়ান এমবাপে। ভিনিসিয়াসের ক্রস থেকে এমবাপে গোল করলেও অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। তিন মিনিট পর বুকায়ো সাকার জোরাল শট রিয়ালের গোলবারের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুই মিনিট পর সাকার আরেকটি জোরাল শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্ত্তয়া।
তার আগে আর্সেনালের নেয়া প্রথম কর্নার কিকের সময় রাউল আসেনসিও মিকেল মেরিনোকে টেনে ধরেন। পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সাকার সেই পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন কোর্ত্তয়া। ম্যাচে প্রথমবার আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় আর্সেনালের, তখন গানারদের উপর চড়াও হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

প্রথমার্ধের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে সুযোগ আসে রিয়ালের, আর্সেনালের ডি বক্সে ডেকলান রাইস এমবাপেকে টেনে ধরায় এবার পেনাল্টি পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে ভিএআর দেখার পর সিদ্ধান্ত আসে অফসাইডের। প্রথমার্ধে দুদল আরও কিছু সুযোগ পেলেও কোনো পক্ষই জালের দেখা পায়নি, গোলশূন্য ড্র’তে বিরতি।
বিরতি থেকে ফিরে ৬৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় আর্সেনালেকে। ডি বক্সের ভেতর বল পেয়ে পেনাল্টিতে গোল দিতে না পারা বুকায়ো সাকা বোকা বানান কোর্ত্তয়াকে। ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল, দুই লেগে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০ গোলে। ৬৭ মিনিটে প্রথম গোল করে রিয়াল, আর্সেনাল ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবার ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যাচের ফলাফল দুই লেগ মিলে হয় ৪-১।
চমকের বাকি তখনও, আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ করলেও আর্সেনালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি রিয়াল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করেন মার্টিনেল্লি। এরপর দুই লেগ মিলে ৫-১ গোলের পরাজয় নিয়ে আসর থেকে বিদায় নিতে হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে সফল দলটিকে।
সেমিফাইনালের অপর ম্যাচে ইন্টার মিলান ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠে নেমেছিল বার্য়ান মিউনিখের বিপক্ষে। সান সিরোতে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি মিলান। বায়ার্ন বল দখল, শট সবকিছুতে এগিয়ে থাকলেও মিলানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। গোলশূন্য ড্র’তে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
বিরতির পর প্রথম গোলের দেখা পায় বায়ার্ন মিউনিখ। ৫২ মিনিটে হ্যারি কেনের গোলে ১-০তে এগিয়ে যায় জার্মান জায়ান্টরা। দুই লেগ মিলে ২-২ সমতায় আসে বাভারিয়ানরা। ৫৮ মিনিটে লৌতারো মার্টিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইন্টার। ৩-২ ব্যবধানকে তিন মিনিট পর ৪-২ করেন বেঞ্জামিন পাভার্ড। কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ইতালিয়ানদের হাতে।

৭৬ মিনিটে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান বায়ার্নের এরিক ডায়ার। দুই লেগ মিলে তখনও ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ইন্টার এবং রোমাঞ্চকর কিছুর আশায় লড়াই। তবে বার্য়ান আর গোল করতে না পারায় ৪-৩ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় মার্টিনেজের দলের।








