ছুটির ঘণ্টা, অশিক্ষিতসহ এরকম জনপ্রিয় মোট ৫২টি চলচ্চিত্রের প্রয়াত কিংবদন্তী নির্মাতা আজিজুর রহমানের ‘রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছে তার পরিবার।
কালজয়ী এই নির্মাতার মেয়ে বিন্দি রহমান বলেন, ভার্সেটাইল ব্যক্তিত্বে এই মানুষটি (আজিজুর রহমান) জীবদ্দশায় একটি বারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। এমনকি কোনো আজীবন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাননি।
১৪ মার্চ কানাডায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে পরিচালক সমিতির উদ্যোগে আজিজুর রহমান স্মরণ সভায় তার মেয়ে বিন্দি রহমান প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ওনার মৃত্যুর পর এই দ্বায়ভার রাষ্ট্র কি নিতে পারবে?
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আজিজুর রহমানের বেশিরভাগ চলচ্চিত্র বিখ্যাত। সেই সব চলচ্চিত্র মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। মানুষদের সিনেমা হলমুখী করেছে। ওইসব চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রাজ্জাক, আলমগীর, শাবানা, ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনারা খ্যাতি অর্জন করেন। তাই বাংলা চলচ্চিত্র বিকাশে আজিজুর রহমানের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।
কান্না জড়িত কণ্ঠে বিন্দি রহমান জানান, ব্যক্তিজীবনে রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মাননা না পাওয়ায় তার বাবা আজিজুর রহমানের কোনো আক্ষেপ ছিল না। গত জানুয়ারিতে তিনি নিজ হাতে কয়েক পৃষ্ঠায় তার জীবনে পরিপূর্ণতার কথা লিখে গেছেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে তাদের আক্ষেপ রয়ে গেছে।
বিন্দি রহমান বলেন, শুধু চলচ্চিত্র পরিচালক নন; বাবা ছিলেন একাধারে অংকন শিল্পী, প্রযোজক, কাহিনিকার, পোস্টার মেকার, সেট ডিজাইনার, মেকাপ আর্টিস্ট। প্রযুক্তির বিকাশ ঘটলেও তার যুগ যুগ আগের কাজগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা হয়।
“তিনি (আজিজুর রহমান) আগাগোড়া চলচ্চিত্রের মানুষ ছিলেন। জীবনে শেষ সময়ে অসুস্থ থাকাকালীন হাতে লিখে তার ইচ্ছার কথা জানিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার শেষ ইচ্ছে ছিল, বৃত্তির ব্যবস্থা করবেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিচালক সমিতির মেধাবী পরিচালকদের (নারী-পুরুষ) সহায়তা প্রদান করা। সন্তান হিসেবে পরিচালক সমিতির কাছে চাইবো বাবার স্বপ্নটা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।”
স্মরণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়ক আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, ওমর সানী, কাজী হায়াৎ, সুজাতা, সাইমন সাদিক, আবদুল লতিফ বাচ্চু, মতিন রহমান, মনতাজুর রহমান আকবর, সোহানুর রহমান সোহান, শাহীন সুমন, কবিরুল ইসলাম রানা, দেলোয়ার জাহান ঝণ্টু, গাজী মাহবুব, বাদল খন্দকারসহএকাধিক পরিচালক।
নায়ক আলমগীর বলেন, ১৯৭৩ সালে ‘অতিথি’ ছবির মাধ্যমে আজিজুর রহমানের পরিচালনায় প্রথম কাজ করি। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই মানুষটিকে চিনতাম। তিনি বহুগুণের অধিকারী। তার মতো দূরদর্শী পরিচালক আমি আর দেখিনি। তার জন্য মন থেকে সবসময় দোয়া কামনা করি।
‘ছুটির ঘণ্টায়’ অভিনয় করেছিলেন সুজাতা। তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তার মতো সৃজনশীল মানুষ আর খুঁজে পাইনি। হয়তো আর আসবেও না। তবে তিনি সবসময় আমাদের শ্রদ্ধার জায়গায় থাকবেন।
কাজী হায়াৎ বলেন, এম কম পাশ করে চুরি করে এফডিসি গিয়েছিলাম। সেখানে আজিজুর রহমানের সাথে দেখা করি। তার সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করি। তার কারণে আমি পরিচালক কাজী হায়াৎ হতে পেরেছি।
আজিজুর রহমানের মেয়ে বিন্দি রহমানের দাবির প্রেক্ষিতে স্মরণসভায় পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, অবশ্যই তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিচালক সমিতি কাজ করবে। একইসাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরণোত্তর তাকে কোনো স্বীকৃতি দেয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করবে পরিচালক সমিতি।








