পরিবারের রুটি রুজি যোগান দিতে সাভারের রানা প্লাজায় কাজ নিয়েছিলেন রংপুরের অর্ধশতাধিক গার্মেন্টস কর্মী। রানা প্লাজা ধস কেড়ে নিয়েছে তাদের জীবন আবার কাউকে বানিয়েছে পঙ্গু।
২ বছরে অন্য সবার কাছে দিনটির আবেদন ম্লান হলেও ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দিনটি ঘটনার শিকার ও তাদের স্বজনদের জীবনে অভিশাপময় এক কালো দিন হয়ে থাকবে।
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে একটু স্বচ্ছলতার আশায় রংপুরের শাহিনুর রানা প্লাজায় পোশাক শ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন। সেদিনের বিভীষিকায় জীবন্ত উদ্ধার পেলেও হারিয়েছেন একটি পা। এখন ক্ষতিপূরণের টাকায় একটি মুদীদোকান দিয়ে কোনরকমে দিন যাচ্ছে তার। তবে আর কোনদিন তিনি আগের মত হাটতে পারবেন না কথাটি বলতে গিয়ে গলা ওঠে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা মানুষটির। এখনও সেদিনেরও ভয়াল স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে। কোন দালানের সামনে গেলে কিংবা ভেতরে ঢোকার আগে তিনি ভাল করে দেখে নেন কোথাও কোন ফাঁটল আছে কি না!<
শাহিনুরের মত পরিবারের রুটি রুজির অবলম্বন হওয়া এসব গার্মেন্টস কর্মীর জীবন এখন চলে অন্যের ভরসায় । স্বজনদের সাহায্য ছাড়া একরকম অচল তারা। ক্ষতিপূরণের টাকায় সংসার চললেও স্বজনদের আক্ষেপ হেটে-চলে বেড়ানো তাদের পরিচিত মানুষগুলোই যে আজ অচল।
রানা প্লাজার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা শ্রমিকদের একটাই চাওয়া অর্থ পিপাসু গার্মেন্টস মালিকের স্বেচ্ছাচারিতার কবলে পড়ে আর যেন প্রাণ হারাতে না হয় কাউকে।







