তীব্র খরতাপে রাজধানী যখন পুড়ছিল তখন সংগীত শিল্পী কনকচাঁপাকে দেখা গেল রমনা পার্কের লেকে শাপলা ফুলের চারা রোপণ করতে।
শুক্রবার ‘সবুজ বাঁচাই-সবুজে সাজাই’, ‘আমাদের খেলাঘর ইশকুল’, ‘ইয়ুথ ইউনিয়ন ফর সাসটেইনেবল হিউম্যান অ্যাক্টিভিটিস’- এর উদ্যোগে ‘জাতীয় ফুল শাপলা বাঁচাই- শাপলায় সাজাই-২০১৭’ নামে একটি কর্মসূচিতে রমনা পার্কের লেকে শাপলা ফুলের চারা রোপণসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিতরণ করা হয়।
অংশ নেন সংগীত শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, তার স্বামী সুরকার, সংগীত পরিচালক মঈনুল ইসলাম খান, প্রকৃতি প্রেমী কাজী হাসান।
ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে বিতরণ করা হয় ত্রিশ প্রজাতির প্রায় চারশো গাছের চারা।
শাপলা বাঁচাই ইভেন্টে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন: সত্যি কথা বলতে, আমাদের অনেক বড় বড় সমস্যা আছে। সেগুলো নিয়ে কাজ করারও সুযোগ আছে। তারপরও আমি শাপলা বাঁচানোর এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে অংশ নিয়েছি কারণ, শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল।
‘আগের মতো আর খাল-বিল, পুকুর ভর্তি শাপলা ফুল দেখা যায় না। এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে শাপলা ফুলে ভরে যাবে দেশ এমন ভাবাটা বেশি হয়ে যায়। তারপরেও আমরা শাপলার সাথে থাকতে চাই। যতটুক পারি।’
তিনি বলেন, শহুরে নানান সমস্যায় শাপলা নিয়ে কাজ করাটা বিলাসিতাই বটে। তারপরও কোন কোন সময় বিলাসিতা করতে ভালোই লাগে।

শাপলা নিয়ে এই বিলাসিতা কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে শাপলা আমাদের বিলাসিতার বস্তু নয়। প্রথমত শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। দ্বিতীয়ত বিজ্ঞান বলে, শাপলা যে এলাকায় থাকে তার আশে পাশে ফুল পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গগুলো বসবাস করে। তারা আশপাশের ফুল-ফসল বিস্তারে ভূমিকা রাখে।’
একজন শিল্পী হয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, আমি মনে করি শিল্পী মানে হলো শিল্পিত জীবন ধারণ, শিল্পিত ভাবনা, শিল্পিত অংশগ্রহণ। সেই দিক থেকে পৃথিবীর সব ভালো কাজে আমার অংশগ্রহণ থাকবে।
সুরকার ও সংগীত পরিচালক মঈনুল ইসলাম খান বলেন: তরুণরা যখন নানান সমাজবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে তখন কিছু ছেলে-মেয়ে প্রকৃতিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলাকে বাঁচাতে কাজ করছে। তাদের উৎসাহ দিতে আমাদের এখানে আসা।
‘আমি মনে করি শুধু শাপলাই নয় সকল প্রাকৃতিক বৃক্ষরাজি বাঁচাতে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। সবুজায়নের মাধ্যমেই আমরা পারি প্রকৃতির বিরূপ আচরণের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।’
এর আগে রাজধানীর কাকরাইলে ই.হাব কোচিং সেন্টারের মিলনায়তন কক্ষে বৃক্ষ রোপণ ও বনায়ন বিষয়ক এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
‘সবুজ বাঁচাই, সবুজে সাজাই’ ইভেন্টের আয়োজক হাবিবুল ইসলাম শান্ত জানান, ত্রিশ প্রজাতির প্রায় চারশো গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে যার মধ্যে আছে তিন প্রজাতির শাপলা।
আয়োজন ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ফুল শাপলা আমার প্রিয়। একদিন দেখি রাস্তায় শাপলা ফুলের বীজ খাবার হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আমি শালুকগুলো কিনে নিয়ে বাসায় বপন করে শালুক থেকে শাপলার চারা উৎপাদন করলাম। তারপর মনে হলো এগুলো বৃক্ষপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে দিলে ভালো হয়।’
তিতুমির কলেজের ছাত্রী ফারজানা হাশিম উত্তর খান থেকে এসেছিলেন শাপলার চারা নিতে। এর পাশাপাশি আরও কয়েক প্রজাতির ফুলের চারা নিয়েছেন বাসায় রোপণ করবেন বলে।
অারেক আয়োজক জাহাঙ্গীর কবির জানান, সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ তাদের অনুপ্রাণিত করছে। ভবিষ্যতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চারা বিতরণ করবেন তারা।








